আমাদের ভারত, ৯ এপ্রিল: আর জি কর মামলা নতুন মোড় নিল। সিবিআই চাইলে সাজা পাওয়া সঞ্জয় রায়কে নতুন করে জেরা করতে পারবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা এই নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, সাজা প্রাপ্ত সঞ্জয় রায় অনেক কিছু জানে বলে মনে হয়। তাই তাকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমস্ত আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার করুক সিবিআই।
আর জি করে নির্যাতিতার মা এই বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন বিজেপির প্রার্থী হয়। আর সেই সময় তাঁর মেয়ের মামলায় নতুন করে সিবিআইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিল হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে আদালতের এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশ। সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তার বেহাল দশা নিয়ে ডাক্তাররা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন। বদলি হন কলকাতার পুলিশ সুপার। আর জি কর কান্ডের জেরে সারা বছর রাজ্যে প্রতিবাদের পরিবেশ জারি ছিল। কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার’কে গ্রেফতার করা হয়। পরে সিবিআই তদন্তেও সেই সঞ্জয়’কেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু এই রায়ের সঙ্গে কখনোই একমত হতে পারেননি নির্যাতিতার মা বাবা।
এই অবস্থায় অভয়ার মা- বাবা মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়ে আদালতে আর্জি জানান। ঘটনাস্থল নতুন করে ঘুরে দেখতে চান। হাইকোর্ট সেটা মঞ্জুর করলেও রাজ্যের আপত্তিতে সেই কাজ হয়নি।
তবে এর মধ্যে রাজ্যে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করে। আর জি কর- এর নির্যাতিতার মা রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বিজেপির প্রার্থী হন পানিহাটি থেকে। তারপরেই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজ শেখর মান্থা জানান, সিবিআই প্রয়োজন মনে করলে আবারো সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় এবং অন্য
সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। জিজ্ঞাসাবাদ করতে তারা যেনো দ্বিধা না করেন। এরপর তিনি প্রশ্ন তলেন, মৃত চিকিৎসকের পরিবার নতুন করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চেয়েছে, তাতে সিবিআই এর কোন আপত্তি নেই। তাহলে রাজ্যের আপত্তি কোথায়? সিবিআই যদি তদন্তে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তাহলে রাজ্যের আপত্তি থাকার কথা নয়।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর নির্যাতিতার পরিবার তরফে জানানো হয়েছে নতুন করে আসার আলো তারা দেখতে পেয়েছেন। তাদের দাবি এই ঘটনায় কেবল একজন দোষী নয়। এবার হয়তো অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আসবে তাদের হাতে।

