সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৪ ডিসেম্বর: জেলার পর্যটন মানচিত্রে সংযোজিত হয়ে গেল নতুন পর্যটন সার্কিট। কাশীপুর, পুঞ্চা, মানবাজার ১ এবং বরাবাজার ব্লককে নিয়ে এই সার্কিটের উদ্বোধন হয়ে গেল আজ। পর্যটনে ‘মাটির সৃষ্টি প্রকল্প’কে জুড়ল পুরুলিয়া। রাজ্যে এই প্রকল্পের চারটি সাইটকে নিয়ে গড়ে উঠছে একটি পর্যটন সার্কিট। আজ পুঞ্চায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন এই সার্কিটের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু ও সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাটির সৃষ্টি প্রকল্পে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সবুজায়ন গড়তে গিয়ে কাশীপুর থানার পাহাড়পুর গ্ৰামে পাহাড় ঘিরে এক মনোরম পর্যটনক্ষেত্র গড়ে তুলেছে প্রশাসন। এখানে রয়েছে পাহাড়ের তলায় একটি জলাশয়, ফল ও সবজি বাগান। সবুজ পাহাড় ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটনক্ষেত্র। জেলাশাসক এখানে পর্যটকদের জন্য একটি জলখাবারের দোকান করে দিয়েছেন। দোকান চালাচ্ছেন স্বনির্ভর দলের মহিলারা।

পুঞ্চা থানার বদড়া গ্ৰামের কাছে এভাবেই মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের অর্থানুকূল্যে এবং জেলাপরিষদের সহযোগিতায় সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৃতি উদ্যান। এখানে রয়েছে রঙবেরঙের প্রজাপতি নিয়ে পার্ক, জলাশয়ে বোটিংয়ের ব্যবস্থা। রয়েছে ফল ফুল ও ভেষজ বাগান, মাছ চাষ ও প্রাণিপালন। পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য কর্টেজ, সত্তর বিঘের উপর গড়ে তোলা পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণের বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে। স্থানীয় স্বনির্ভরগোষ্ঠী এর পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।

মানবাজার থানার জিতুজুড়ি গ্ৰামের কাছে কংসাবতী নদীতীরে মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডুর উদ্যোগে এবং স্থানীয় গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে হাতিপাথর পার্ক। এখানেও মহিলা স্বনির্ভর দলের হাত ধরে গড়ে উঠেছে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা, পিকনিকের যাবতীয় সুবিধা। এছাড়া বরাবাজারের রাজাপাড়াতেও গড়া হয়েছে এমন একটি পর্যটনক্ষেত্র।
জেলাশাসক জানিয়েছেন, চারটি নতুন পর্যটনক্ষেত্র নিয়ে মাটির সৃষ্টি পর্যটন সার্কিট গড়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরুলিয়াকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রূপসী বাংলা। সেই রূপসী বাংলা সেজে উঠেছে মাটির সৃষ্টিতে। তিনি জানান, চারটি পর্যটনক্ষেত্রেই পর্যটকদের সুবিধার্থে আধুনিক পরিষেবা রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দিতেই এই প্রকল্পের ভাবনা বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ৬ টি জেলা (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান)-র ৭২ টি ব্লক এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। পুরুলিয়া জেলা এই প্রকল্প রূপায়ণে যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

