আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি:রাজ্যের বেসরকারি চিকিৎসা ক্ষেতে বেলাগাম খরচে লাগাম পড়াতে নয়া নির্দেশিকা আনতে চলেছে স্বাস্থ্য কমিশন। পাঁচ বছর হয়েছে কমিশন তৈরি হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে খরচের কোন ঊর্ধ্বসীমা ধার্য এখনও পর্যন্ত করেনি কমিশন। কিন্তু হাইকোর্টে সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এবার সেই পদক্ষেপ করতে চলেছে কমিশন।
বেসরকারি হাসপাতালে খরচে ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণে কমিশনের বক্তব্য জানতে চায় হাইকোর্ট। সেইমতো একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গত পাঁচ বছরে ক্ষতিপূরণ জরিমানা মিলিয়ে ৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ধার্য করেছে কমিশন। এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যে সবকটি বেসরকারি হাসপাতালের মত নিয়ে একটি নির্দেশিকা আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর লাগামহীন খরচ নিয়ন্ত্রণে কি কি করা উচিত তা স্থির করতে রবীন্দ্রসদনে বৈঠকে বসে স্বাস্থ্য কমিশন। স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য, চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা পৌর নিগমের কমিশনার বিনোদ কুমার, গোপাল কৃষ্ণ ঢালী, মাখনলাল সাহার মত বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কোভিড পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একাধিক নির্দেশ জারি করেছিল কমিশন। কিন্তু সেইসব অ্যাডভাইজারি অনেক হাসপাতালই ঠিকমতো মানছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে শুক্রবার বেসরকারি হাসপাতালগুলো সঙ্গে স্বাস্থ্য কমিশনের বৈঠক যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আনন্দপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালকে কমিশনের তরফ একটা মোটা টাকার জরিমানা করা হয় কয়েকদিন আগে। ওই হাসপাতালের এক রোগীকে ১০ লাখ টাকার ওষুধ, ২ লাখ টাকার তুলো ব্যান্ডেজ গজ ইত্যাদি নিয়ে ২৯ দিনে ২৩ লাখ টাকারও বেশি বিল ধরানো হয়েছিল। আর এই ঘটনার জেরে বেসরকারি হাসপাতালকে দু লাখ টাকা রোগীর পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য কমিশন।জরিমানাও করা হয় ৫০ হাজার টাকা। জরিমানার টাকাও রোগীর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

