ওয়াক ফর্ম হোমে খরচ বাড়ছে কর্মীদের, নয়া আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র

আমাদের ভারত, ৯ ডিসেম্বর: কোভিড পরিস্থিতির জন্য
শেষ দু বছর ধরে এক নতুন কর্মপদ্ধতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে কর্মচারীরা। এই পদ্ধতিতে কাজ হওয়ার‌ ফলে অনেক মানুষকেই যেমন কাজ হারাতে হয়নি, তেমনি তাদের উপর বাড়তি খরচ ও কাজের বোঝা এসে পড়েছে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগ ইতিমধ্যেই সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাই মোদী সরকার ওয়াক ফর্ম হোম পদ্ধতিতে কাজের ক্ষেত্রে নয়া আইন আনার চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিয়েছে।

গত দুই বছর ধরে সারা বিশ্বের মতো ভারতের লকডাউন পর্ব চলেছে। এর ফলে জরুরী পরিষেবা বাদ দিলে সব কর্ম প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়েছে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করাতে। করোনা পরিস্থিতির আগে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি বিশেষ ক্ষেত্রে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের অনুমতি দিত। কিন্তু অতিমারির সময় সংক্রমণ বাড়া, লকডাউন ইত্যাদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই ওয়াক ফর্ম হোমের পরিধি বেড়েই চলেছে।

ওয়াক ফ্রম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ বিকল্প হিসেবে উঠে এলেও কাজের পদ্ধতি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। কর্মীদের অভিযোগ বেসরকারি সংস্থাগুলো কর্মীদের অনেক বেশি সময় কাজ করালেও তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না। কেন্দ্র সরকারের এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এবার সেই সমস্যার সমাধানে বেসরকারি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা কবচ দেওয়ার ভাবনা চিন্তা করছে মোদী সরকার। সূত্রের খবর, সরকার উদ্যোগী হয়েছে যত দ্রুত বাড়ি থেকে কাজের ব্যাপারে কিছু নিয়ম চালু করতে। জানা গেছে, কেন্দ্র সরকারের তরফে এই ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

করোনার কারণে বহু প্রতিষ্ঠান কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা। ফলে বহু কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতেই প্রাথমিকভাবে বাড়ি থেকে কাজ করার নতুন উপায় শুরু হয়। বর্তমানে বহু সংস্থার কর্মীরাই বাড়ি থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার বেশকিছু সংস্থাতে সপ্তাহে কিছু দিন অফিসে এসে কিছুদিন বাড়ি থেকে কাজ করার মিশ্র পদ্ধতি চালু রয়েছে। বাড়ি থেকে কাজ করার বিষয়ে আইনি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বর্তমানে সরকার এই নিয়ে আইন আনতে চাইছে। অভিযোগ উঠেছে, বহু সংস্থায় এর সুযোগে কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের থেকেও অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করাচ্ছে। অতিরিক্ত সময় কাজ করার জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। কর্ম প্রতিষ্ঠানগুলির বক্তব্য, বাড়ি থেকে কাজ করায় কর্মীদের অনেক বাড়তি সুযোগ রয়েছে। এর ফলে কর্মীদের যাতায়াতের সময় এবং খরচ দুই সাশ্রয় হচ্ছে। কিন্তু কর্মীদের দাবি, বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে তাদের কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এছাড়াও বাড়ি থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের খরচ বাড়ার উল্লেখ করেছেন কর্মীরা। বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য ইন্টারনেট, বিদ্যুতের মতো পরিষেবার খরচ অনেকটাই তাদের বেড়ে যাচ্ছে। বহু সংস্থাই এই খরচ কর্মীদের দেয় না।

সূত্রের খবর কর্মীরা যাতে এই দুই খরচ পান, সে দিকটি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিয়ম তৈরি করতে ইতিমধ্যে সরকারের তরফে একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।‌ তবে করোনার আগে থেকেই যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে বাড়ি থেকে কাজের নিয়ম চালু ছিল তাই তাদের ক্ষেত্রে বহু নিয়ম আগে থেকে বলা ছিল।

কেন্দ্র সরকারের বর্তমানে উদ্দেশ্য কর্মসংস্থানের সব ক্ষেত্রগুলিকে একটি নিয়মের আওতায় আনা,
‌তবে নিয়ম কবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে সরকারের তরফে এখনো কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *