আমাদের ভারত, ২৫ ফেব্রুয়ারি: আগেই আঁচ করা গিয়েছিল এবার সরকারিভাবেই তা ঘোষণা করা হলো। এবার থেকে ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর নজরদারি চালাবে কেন্দ্র। স্পষ্ট জানানো হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি আঘাত হানার চেষ্টা হলে করা শাস্তি হবে নির্দিষ্ট ডিজিটাল মাধ্যমের। কেন্দ্র সরকার জানিয়ে দিল স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধটাও থাকতে হবে।সরকারের নির্দেশের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সোসাল প্লাটফর্ম থেকে সরাতে হবে আপত্তিজনক কনটেন্ট। ওয়েব সিরিজ থেকে চ্যাট শো, তথ্যচিত্র থেকে ওয়েব নিউজ সবক্ষেত্রই এই নিয়মের আওতায় আসতে চলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু বিতর্কের কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। তার জন্য তিন মাসের মধ্যেই আইন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। এক্ষেত্রে ত্রিস্তরীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে সরকার।
তিন মাস পরে সমস্ত নিয়ম বিধি প্রণয়ন করলেও এই মাঝের সময়ে বোঝাপড়া করে নিতে হবে মাধ্যমের নির্মাতাদের। সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ কোড অফ এথিকস পেশ করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক গুলির হাতে থাকবে নজরদারির বিভিন্ন দায়িত্ব। নেট মাধ্যমে নিয়মাবলী জানালেন মন্ত্রী। কোনো ফরওয়ার্ড করা মেসেজ প্রথম কে পাঠিয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে। ভারতের বাইরে থেকে আসা কোনো বিষয় বস্তুর ক্ষেত্রে দেখা হবে সেটা ভারতে প্রথম কে ছড়ানো শুরু করেছে। কোনো নেট মাধ্যমের প্রোফাইলে বেআইনি তথ্য থাকলে সেই তথ্য প্রকাশের কারণ দেখাতে হবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন,” ভারতবর্ষে ব্যবসা করতে ডিজিটাল মাধ্যমের পথে কোন বাধা দেওয়া হবে না। তাদের কাজ প্রশংসনীয়। স্পষ্ট করে বলে দেওয়া ভাল, সরকার কিন্তু সমালোচনা কে স্বাগত জানায়। নেট মাধ্যমের সাহায্যে মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারেন। সেটার প্রয়োজন রয়েছে। নেট মাধ্যমের অপব্যবহার হলে নেট নাগরিকরাই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেন। কিন্তু যেভাবে মহিলাদের আপত্তিকর ছবি বিকৃতভাবে নেট মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে তা অন্যায়। একে সভ্যতা বলা চলে না। অর্থনৈতিক প্রতারণা ও ভুয়ো খবরে ভরে যাচ্ছে দেশ।”
মন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, নেট মাধ্যমের সাহায্য নিয়েই দেশের সীমান্তের বাইরে থেকেও মানুষ সন্ত্রাসবাদ ও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই অভিযোগও তাদের কাছে রয়েছে।
ওটিটি প্লাটফর্ম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওপর কি কি নিয়ম প্রয়োগ হবে তা ঘোষণা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। প্রথমত, কোন বিষয়বস্তু পেশ করতে হলে তার সমস্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অভিযোগ এনে তার নিষ্পত্তি করার পদ্ধতি থাকতে হবে। তৃতীয় ওটিটি প্লাটফর্ম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে একটি কমিটি তৈরি করতে হবে। যারা নজরদারি করবে বিষয়বস্তুর ওপর। তার নেতৃত্বে থাকবেন কোন উচ্চ আদালত বা শীর্ষ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। বিষয়বস্তু নিয়ে যদি অভিযোগ জমা পড়ে তার জন্য শুনানি হবে আদালতে। যে কেউ কমিটির কাছে শত প্রণোদিতভাবে মামলা করতে পারবে। অভিযোগ করা হলে সেই সংস্থাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা যেতে পারে বা তিরস্কার করা যেতে পারে। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে ওই কমিটিকে।

