সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৭ মার্চ: জেলার ১২টি আসনে প্রার্থী তালিকায় তিনটি নতুন মুখ এনে চমক দিল তৃণমূল।আজ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। সম্মানের আসন বাঁকুড়া সদর কেন্দ্রটি বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে আনতে বাঁকুড়ায় নামজাদা চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ অনুপ মন্ডলকে প্রার্থী করে, অপরদিকে রানিবাঁধে মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডিকে সরিয়ে শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদাকে টিকিট দিয়ে চমক শাসক দল তৃণমূলের। অন্যদিকে বড়জোড়ায় একজন সমাজকর্মীর ওপর ভরসা রাখলেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী। বড়জোড়া কেন্দ্রের জন্য দলীয় প্রার্থীর টিকিট পেলেন গৌতম মিশ্র বা শ্যামদা। মঙ্গলবারই তৃণমূলে যোগ দেন এই তিন জন, এবং এই তিনজনই বাঁকুড়া, রাণীবাঁধ ও বড়জোড়া কেন্দ্রের জন্য দলীয় প্রার্থীর টিকিট পেলেন।
বাঁকুড়ার মেজিয়া- বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে বর্তমানে একটা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বইছে। তার ওপর এই এলাকায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার তৃণমূল। ২০১৬- র নির্বাচনে সিপিআই(এম) প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হয় তৃণমূলের হেভিওয়েট তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। বহিরাগত বলে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বড়জোড়ার মানুষ। ২০২১ নির্বাচনে ঘরের ছেলে অলক মুখার্জি আসনটি দখলে নিয়ে বিধায়ক হন। এদিকে সিপিআই (এম) এবারও প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তীকেই। অন্যদিকে বিজেপি স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আইনজীবী বিল্লেশ্বর সিংহকে প্রার্থী করেছে। এতেই শাসক দল তৃণমূল অলকের ওপর আর ভরসা রাখতে পারল না। দলের ভেতর অলোক বিরোধী চোরাস্রোত বইছে, তার ইঙ্গিত পেয়েই জেলার এক বিশিষ্ট সমাজকর্মী গৌতম মিশ্রকে ভরসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গৌতম মিশ্র জেলায় শ্যামদা নামেই পরিচিত। তিনি মঙ্গলবার দলে যোগ দিলেন। তিনি কংগ্রেস মতাদর্শীর মানুষ হলেও ১৯৯৮ সালেই তৃণমূলে যোগ দেন এবং জেলা পরিষদের প্রার্থী হন। বাম প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। আজ তিনি সফল পরিবহন ব্যবসায়ী। দুর্লভপুর ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে যুক্ত। যা ভারতবর্ষের অন্যতম বৃহৎ পরিবহন সংস্থা। তিনি ২০২১ নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। তাকে বড়জোড়া থেকে বিজেপির প্রার্থী করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি শেষ পর্যন্ত তাকে টিকিট দেয়নি। সেই থেকে তিনি বিজেপির ছায়াও মাড়াননি।
এদিন যোগদানের পর গৌতম মিশ্র বলেন, সেটা ছিল তার জীবনের সব চাইতে বড় ভুল। তবে ২৪ ঘন্টা বিজেপিতে থেকে বুঝেছি কী দম বন্ধ করা পরিবেশ সেখানে। তাঁর দাবি, তিনি এবং তাদের প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট ধাঁচে সিএসআর ডিপার্টমেন্ট খুলেছেন। যেখানে লভ্যাংশের একটি অংশ সমাজ কল্যাণে ব্যয় করা হয় বড়জোড়া, মেজিয়া, শালতোড়া, বাঁকুড়া সদর ও ছাতনা ব্লকে। তাছাড়াও জেলাজুড়ে তাঁদের কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে রয়েছে। কোভিডের সময় সস্ত্রীক গৌতম মিশ্র যেভাবে সাহায্য ও ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তাতে জেলার মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় সমাজ কর্মী।
এদিন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত গৌতম বাবুর হাতে পতাকা তুলে দিয়ে বলেন,সমাজসেবা করার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম চাইছিলেন। আর মমতা ও অভিষেকের একমাত্র মন্ত্র উন্নয়ন।

