সুকন্যার দুঃখে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় নেটনাগরিকদের তোপে ফিরহাদ

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৮ এপ্রিল: সুকন্যার দুঃখে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে নেটনাগরিকদের কাছে সমালোচিত হলেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বিরুদ্ধে অজস্র তোপ বর্ষিত হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

সুব্রত দাস লিখেছেন, “এক চোরের দুঃখ আরেক চোরই বোঝে।” কমল দাস লিখেছেন, “সত্যিই তো জনপ্রতিনিধিদের মতো কথা। তাহলে কি সমগ্র বাংলায় এই একজনই কি মাতৃহারা না এই একজনই প্রকৃত ভালোবাসার নাগরিক এবং ভোটার? বিষয়টি কেমন যেন বোকা বোকা হয়ে গেলো না? এইজন্যই বোধহয় বলে বিনাশকালে বুদ্ধি নাশ। যদি ভুল বলি শুধরে দেবেন।”

অমিত ঘোষ লিখেছেন, “প্রায় প্রতিদিনই অসহায় নাবালিকা ও মহিলাদের উপর যে অত্যাচার হয়ে চলেছে তাতে এদের কোনো দুঃখবোধ হয় না। ওদের দুঃখবোধ, সহমর্মিতা সবই চোর, বাটপার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য একান্তভাবে সংরক্ষিত।” অরবিন্দ দত্ত লিখেছেন, “পার্থ-অর্পিতাকে কিন্তু গ্রেপ্তার করাটা খুব আমানবিক কাজ হয়েছে যতই কোটি কোটি পাওয়া যাক না কেন প্রকৃতির উপর এ এক অবিচার, অন্যায়। স্ত্রী বিয়োগে ভদ্রলোক নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন দরকার হয়েছিল একজন সঙ্গীর। সেটাও বিচারপতি মাননীয় অভিজিৎ গাঙ্গুলির নির্দেশে সিবিআই, ইডির তদন্তে পার্থ-অর্পিতাকে গ্রেপ্তার করা খুবই অমানবিক একটা কাজ ছিল।“

সুকুমার বিশ্বাস লিখেছেন, “একজন চোর হিসেবেই ফিরহাদের এই আকুতি, বাবা হিসেবে নয়…কারণ চোরের জন্য চোরই তো সহানুভূতি দেখাতে পারে!”
তারক চ্যাটার্জি লিখেছেন, “একদম চিন্তা করবেন না ফিরহাদ দা, সবে পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতির এফআইআর করেছে ইডি, সিবিআই। লাইনে থাকুন কষ্টের ভাগ আপনিও পাবেন।”

গোপাল সিংহ লিখেছেন, “যারা চাকরি পাবার আশায় রাস্তায় ধর্না দিচ্ছে তাদের প্রতি টিএমসির কোনো চোর দুঃখ প্রকাশ করে না। কিন্তু চোরদের জন্যে চোখের জল বেরচ্ছে চোর টিএমসির। প্রদীপ কর্মকার লিখেছেন, “সহমর্মিতা এই শব্দটি আগে নিজে মেনে চলতে হবে। তার পর অন্যের জন্য খাটে।”

প্রসঙ্গত, কেষ্ট কন্যার গ্রেফতারি প্রসঙ্গে ফিরহাদ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাড়ির সন্তানদের নিয়ে অন্তত প্রতিহিংসার রাজনীতি না করাই ভাল।’ এরপরই অনুব্রতর স্ত্রী ছবি মণ্ডলের হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন অবস্থার কথা তুলে আনলেন তিনি। কেষ্ট-জায়া যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, সেই সময় হাসপাতালে গিয়েছিলেন ফিরহাদও। তখন সুকন্যাকে যেভাবে দেখেছেন, সেই কথাও মনে পড়ে যাচ্ছে মেয়রের। বললেন, ‘ওর মা যেভাবে দুই বছর ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন…ও (সুকন্যা) দু’বছর ধরে টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে ছিল। বেরোয়নি। দিন-রাত মায়ের কাছে ছিল। তারপর যখন কাজে গিয়েছিলাম, দেখেছিলাম মানসিকভাবে অবসাদে ছিল। তারপর বাবা গ্রেফতার হল। মেয়েটার মনের উপর দিয়ে কী যাচ্ছে, বাবা হিসেবে আমি তা অনুভব করছি। আমি বাবা হিসেবে অত্যন্ত ব্যাথিত।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *