আমাদের ভারত, কলকাতা, ৫ ডিসেম্বর: নেতাজি সুভাষ সমাজ সচেতন মঞ্চের উদ্যোগে রবীন্দ্রসদন রাণুছায়া মঞ্চে সোমবার বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস এবং গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে প্রচার মূলক প্রতিবাদী সভা আয়োজিত হল।
মূলত পরিবেশ দূষণ এবং মৃত্তিকা দূষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার পাশাপাশি প্রত্যেক মাসে বৃক্ষ রোপণ উৎসব পালনের অঙ্গীকার করা হয় নেতাজি সুভাষ সমাজ সচেতন মঞ্চের পক্ষ থেকে। মঞ্চের আহ্বায়ক তথা অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন, ঠাণ্ডা পানীয় বানাতে গিয়ে যে ভাবে প্রায় তিনগুন ভূগর্ভস্থ জল নষ্ট করা হচ্ছে তা এক কথায় জীবধাত্রী বসুধার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ। এর বিরুদ্ধে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেবশ্রী কাঞ্জিলাল রবি ঠাকুরের বিখ্যাত “আগুনের পরশমণি” গানটি গেয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন বাচিক শিল্পী সঞ্চিতা কানথাল, অঞ্জু সরকার এবং মিতা পাল। সভাপতির ভাষণে চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন, “নেতাজি সুভাষ সচেতন মঞ্চ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মুখ ভারতীয় টাকায় দাবী করার সাথে সাথে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে লড়াই করতে হবে। নেতাজির দেখানো পথে সমস্ত প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গবৈষম্যর ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ গঠন করতে পারলেই একমাত্র ভারত বর্ষকে বিশ্ব গুরুর আসনে উন্নীত করা সম্ভব। নেতাজী নিজেও প্রত্যহ গীতা পড়তেন, বুক পকেটে গীতা রাখতেন।
সুভাষ সচেতন মঞ্চের পক্ষ থেকে টালিগঞ্জ মোড় এবং যাদবপুর মোড়ে একশতটি করে গীতা তুলে দেওয়া হয় পথ চলতি মানুষের হাতে। আগামী দিনে সুভাষ সচেতন মঞ্চের পক্ষ থেকে নেতাজির জন্মের একশো পঁচিশতম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সারা বছর ধরে একাধিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করে সমাজের সর্ব স্তরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ স্থাপন করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিল্পী সর্বানী চ্যাটার্জি। মঞ্চের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমলিনি বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় নেতাজি সুভাষ সচেতন মঞ্চের সভ্য সদস্যদের কণ্ঠে যৌথ ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে।

