বিশেষ প্রতিনিধি, ২ নভেম্বর: দলীয় কোঁদল নিয়ে ফের তোপ দেগে নেট নাগরিকদের বিতর্কের মুখে পড়লেন তথাগত রায়।
হিন্দু সেবাদলের রাজ্য সভাপতি দিবাকর দেবনাথ মঙ্গলবার টুইটে লিখেছেন, “একজন লিডারের গুণ হচ্ছে কর্মীদের কাছ থেকে কাজ হাসিল করা। কর্মীরা পরিশ্রম করেনি বলে হেরেছি এটা একজন লিডার কখনো বলতে পারে না। কারন কর্মীদের পাশে দাড়িয়ে তাদের যোগ্যতা বুঝে কাজে লাগিয়ে কাজ উদ্ধার করার গুণ একজন লিডারের মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবে। তাই সবাই কর্মী হতে পারে কিন্তু লিডার নয়।“
জবাবে তথাগতবাবু লিখেছেন, “আরো কথা আছে। রাজনৈতিক কর্মী দু’রকমের হয়। একদল আদর্শের অনুগত হয়ে কাজ করে, অন্য দল পয়সার বিনিময়ে করে, প্রায়ই পয়সাটা নিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। এবার প্রথম দলটি যখন কাজ করতে চাইল তখন কেডিএসএ টিম তাদের বলল, আপনারা এতদিন ধরে কাজ করে কি …ছেন? আমি এসেই আঠারোটা সিট বার করেছি! যান, ভাগুন!“ ‘কেডিএসএ টিম’ বলতে তথাগতবাবু চার বিজেপি নেতার নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহার করেছেন। আগেও তিনি এই চার নেতার নামে প্রকাশ্যে, একাধিকবার তোপ দেগেছেন।
এই পোস্টের চার ঘন্টা পর মঙ্গলবার বেলা সওয়া একটায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯০১, ১০৭ ও ২৮। প্রতিক্রিয়ায় বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “যে মানুষটাকে বলছেন তিনি এখনও প্রতিদিন জেলায় জেলায় ঘুরে সংগঠন দেখছেন। ওনার সততার প্রতি মানুষের সন্দেহ নেই। যে ভুল হয়েছে সেটা কেন্দ্রীয় নেতাদের হয়েছে। বিজয়বর্গীদের মত নেতাদের সামনে রেখে পচা তূণমূলীদের দলে নেওয়া। বিজেপি কমীর্দের আবেগটা নষ্ট করে দেওয়া।“
নবীন রায় লিখেছেন, “আপনি নিজেই তো কোনোদিন কোনো কর্মীর পাশে দাঁড়াননি.. খালি সুবিধা ভোগ করেছেন। একটা কর্মীর কোনো সাহায্যে আপনি আসেননি। তাই আপনার মতন নেতা আমরা চাই না। বয়স হয়েছে অনেক কামিয়েছেন এবার হরিদ্বারে চলে যান। কথাটা অত্যন্ত সত্যি, একদমই গা জ্বলছে না, কিন্তু যে ব্যক্তি নিজেই স্বার্থপর তার থেকে এমন পোস্ট আশা করা যায় না। এই ব্যক্তি কোনো দিন কারোর কোনো কাজে আসেনি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি।”
সত্যভূষণ পাঠক লিখেছেন, “মহাশয়, তথাগত রায়! একজন শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকত্বকে প্রণাম জানাই। আপনি যখন রাজ্য কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন তখন আমি চন্দননগর মণ্ডলের সভাপতি ছিলাম এবং এগারোর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীও ছিলাম, সেসময় আপনার সান্নিধ্য পেয়েছি। বর্তমানে সাময়িক লাভক্ষতির বিচারে বিজেপি অনেকটা পিছিয়ে গেছে তা ঠিক। এর জন্য দলীয় অভ্যন্তরে অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি আছে এটা ঠিক। আপনি যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন, সবার ক্ষেত্রে না হোক কতিপয়ের ক্ষেত্রে হয়তো যথার্থ। তা সত্ত্বেও সবিনয়ে জানাই কোটি কোটি মানুষের সামনে বিষোদ্গার করছেন এটা বাঞ্জনীয় নয়। আপনি এইভাবে কাদাছোড়াছুড়ি করে নিজের জ্ঞানকে উপহাসের বিষয় করছেন। এখন দলকে দিশা দেখানো দরকার। তবে আপনারটা পথ নয়।”
রফিকুল আলম সিদ্দিক লিখেছেন, “আমি বলবো বিজেপিতে এখনও দিলীপ ঘোষ খাঁটি। উনি লড়াই করেন। আর এই বুড়োটা শুধু টিভি আর ফেসবুকে ভাষণ।“ সমীর চন্দ লিখেছেন, “আপনি প্রবীণ নেতা। পজিটিভ সমালোচনা করুন। এখন তো মনে হচ্ছে আপনি দিলীপ এলার্জিতে ভুগছেন।”
বিশ্বরাজ দত্ত লিখেছেন, “তবে রাজ্য বিজেপিতে বিরোধী নেত্রীর মতো একজন নেতার প্রয়েজন। যারা আদর্শ নিয়ে লড়াই করে তাদের পিছনে দাড়িয়ে সাহস জোগাবে। দেখুন রাজীব কুমার দোষী বা বিনাদোষী আইনি ব্যাপার, কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী কী ভাবে পাশে দাঁড়ালেন এবং রাজ্যের মন্ত্রীদের পাশে দাড়ালেন এতে কর্মীদের মনোবল বাড়ালেন। কিন্তু এখানে কর্মীরা মারা গেলে মিডিয়ার সামনে লাশের শুধু কাউন্টটিং হয়। আরেকটি কথা মোদীজী দেশের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করছে মুখ বুঝে এবং জনগনের জন্য বিভিন্ন রকম ভালো ভলো স্কিম তৈরি করছে, দেশে এত বিরোধী থাকা সত্বেও। কিন্তু রাজ্য নেতাদের কোনো রকম ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না। কর্মীদের পাশে না দাঁড়ালে আগামী দিনে,,,,। আমার কথাগুলি নেগেটিভ হলেও ভেবে দেখবেন। আমাদের দলের কর্মী হওয়া এত সহজ নয়। ভুল বললে ক্ষমা মার্জনীয়।“

