স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৫ অক্টোবর:
পটলের খেতে ঢুকে পড়েছিল প্রতিবেশীর ছাগল। সেই ছাগল পটলের ক্ষেত নষ্ট করায় কথা কাটাকাটি হয়েছিল ছাগলের মালিকের সঙ্গে পটলের চাষির। তখনই ছাগলের মালিক হুমকি দিয়েছিলেন দেখে নেওয়ার। তিনদিনের মধ্যেই এক বিঘা জমির সমস্ত পটলচাষ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী বিরুদ্ধে। থানায় ডায়েরি করার পরেও কোনো তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের কুমারপুর গ্রামের।
জানাগেছে, বাসিন্দা শংকর বিশ্বাস। কৃষিকাজই যার একমাত্র জীবিকা। করোনার প্রকোপে অন্যান্য কাজ সবই বন্ধ। তিন ছেলে স্ত্রী নিয়ে সংসার। ব্যাঙ্ক থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঋন নিয়ে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছিলেন। আশা ছিল পটল বিক্রি করে তার পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু প্রতিবেশীর চোখরাঙানি হলো তার কাল।
তিনি মঙ্গলবার মাঠে নিজের জমিতে কাজ করছিলেন। সেইসময় প্রতিবেশীর ছাগলের পাল পটলের জমির ভেতরে চলে আসে, তিনি প্রতিবেশীকে বলেন ছাগলগুলো সরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। এতে প্রতিবেশী ক্ষুব্ধ হন এবং তার সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। শঙ্করবাবু বলেন এক সময় রাগবশত প্রতিবেশী তাকে হুমকি দেন তার এই পটলের ক্ষেত নষ্ট করে দেবেন। তিনি বিষয়টি সেভাবে আর ভেবে দেখেননি। ভেবেছিলেন শুধুমাত্র কথার কথা। তিনদিন পর সকালবেলা জমিতে পটল তুলতে গিয়ে দেখতে পান তার পটলের খেত সম্পূর্ণ কেটে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা। তিনি আর তার পরিবারের সদস্যরা হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অবশেষে পাড়া-প্রতিবেশীর সহযোগিতায় কৃষ্ণগঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। শঙ্করবাবু আক্ষেপ করে জানান, প্রতিবেশীর রাজনৈতিক প্রভাব থাকার দরুন পুলিশ তদন্ত করতে আসেনি প্রতিবেশীরাও ক্ষোভ উগরে দেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। চারদিন হলেও এখনো পর্যন্তএই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বলে ক্ষোভ উগরে দেন বিশ্বাস পরিবার। গোটা পরিবারের একমাত্র আয়ের শেষ সম্বল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা আজ দিশেহারা।
কৃষ্ণগঞ্জ এফপিসির ( ফার্মাস প্রডাক্ট কোম্পানি) সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন। অবিলম্বে দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করার দাবি জানান অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্ত ঘটনা জানাবেন বলে জানান। এব্যাপারে পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত চলছে।

