সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৩ আগস্ট: প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে আচমকাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল আর এক প্রতিবেশীর যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত এবং তাঁর পরিজনদের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই ব্যাক্তির নাম নীলকমল সর্দার। অভিযোগের ভিত্তিতে খুনীকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার পুস্তিঘাটা গ্রাম এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগদা থানার পুস্তিঘাটা গ্রামের বাসিন্দা, দিনমজুর নীলকমল সরদার (৫৮)। রবিবার রাতে মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই সুভাষ সরদার নামে এক প্রতিবেশী যুবক তার বাড়ির ভেতর থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে পেছন দিক থেকে নীলকমলকে এলোপাথাড়ি কোপ বসিয়ে দেয়। স্থানীয়রা সেই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। কেউ কেউ ভয়ে পালিয়েও যায়। এরপর প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় নীলকমলকে স্থানীয়রা দত্তফুলিয়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নীলকমল নিপাট ভদ্রলোক। তাঁর সঙ্গে সুভাষের কোনও বিরোধ ছিল না। তা সত্বেও কেন সুভাষ তাঁকে এইভাবে খুন করল, তা কেউ বুঝতে পারছেন না। হামলা করার পর অস্ত্র হাতে দিয়ে নির্লিপ্তভাবে নিজের বাড়িতেই বসেছিল খুনী সুভাষ। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র সহ সুভাষকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, নীলকমলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে খুনী সুভাষ এবং তার পরিজনদের ৪টি বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালান। সুভাষের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ধৃত সুভাষকে সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগদা থানার পুলিশ।

