সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ ফেব্রুয়ারি: খাতড়ার বীরখাম গ্রামে নিজের বাড়ির মধ্যে থেকে পরিযায়ী শ্রমিক সন্দীপ মুদির দেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এক প্রতিবেশীকে আটক করেছে। খাতড়া থানার দহলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরখাম গ্রামে নিজের বাড়িতে গত রবিবার সন্দীপ মুদি (২৬) কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মাত্র কয়েকদিন আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন সন্দীপ মুদি। বাবা ও মা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ায় শনিবার রাতে সন্দীপ বাড়িতে একাই ছিলেন। রবিবার ঘরের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় সন্দীপের রক্তাক্ত দেহ।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্দীপের মাথার সামনে ও পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাই তাদের ধারণা তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় খাতড়া থানার পুলিশ তদন্তে নামে। মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খাতড়া থানার পুলিশের তদন্তে সাফল্য আসে। সন্দীপ মুদিকে খুনের অভিযোগে তারই প্রতিবেশী বলরাম মুদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতকে খাতড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে দশ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে পুরনো ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এই খুন হয়ে থাকতে পারে।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, বলরামের স্ত্রীর সঙ্গে সন্দীপের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল এই দু’জনের মধ্যে। সেই কারণে এই খুন ঘটে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে।
এই বিষয়ে খাতড়ার এসডিপিও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছে। বলরাম ছাদের রাস্তা দিয়ে সন্দীপের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্তকে জেরা করা হচ্ছে। ঘটনার পুনর্গঠন করা হবে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

