তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে পাস হয়ে গেল দিল্লির প্রশাসনিক ক্ষমতা সংক্রান্ত বিল

আমাদের ভারত, ২৫ মার্চ: তীব্র বিরোধিতার সত্ত্বেও ভোটাভুটিতে পাস হয়ে গেল দিল্লির প্রশাসনিক ক্ষমতা সংক্রান্ত বিল। গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক বিতর্ক হই হট্টগোলের পরেও পাস হয়ে গেছে এই জিএনসিটিডি বিল। এর ফলে দিল্লির প্রশাসনিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া হল রাজ্যপালের হাতে। এই বিলের বিরোধিতায় সরব আম আদমি পার্টি। তাদের অভিযোগ এই বিলের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা খর্ব করছে বিজেপি।

ভোট থাকা সত্ত্বেও গোটা বিষয়টি নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করতে, গতকাল রাতেই কলকাতা থেকে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরা। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এই বিলটি নিয়ে আলোচনা মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন। যদিও এর পাল্টা দিয়ে বিজেপি সভাপতি সাংসদ জেপি নাড্ডা জানান বিজেপি এমন খেলোয়াড় নয় যে পরাজয়ের আভাস পাওয়া শুরু করলেই থার্ড আম্পায়ারকে দায়ী করে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন সংখ্যার বিচারে রাজ্যসভার বিরোধী পক্ষ এই বিলিটি আটকাতে পারবে না তা জানাই ছিল। তবু ভোটের মুখে কেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ কেন দিল্লি ছুটে এলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের অনুমান পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ দিয়ে বিজেপির বিরোধিতা করে বাংলায় বার্তা দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ তৃণমূল সাংসদের। সেই টুইট করেন ডেরেক বলেন পাঁচ রাজ্যে দুদিন পরেই ভোট, অথচ তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদরা দিল্লী এসেছেন কেন্দ্রের জিএন সিটিডি বিলটি আনার গাজোয়ারি চেষ্টা বন্ধ আটকাতে। গণতন্ত্র, সংবিধান, সংসদের বুকে আরো একটি ছুরি বসানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে রাজ্যসভার বিতর্কে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতের প্রতি ইঙ্গিত করেন তিনি। তার কথায়, “সিবিআই, ই ডি এবং আয়কর বিভাগে তিনটি এখন মোদী শাহের নতুন জোট। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরো একটি পক্ষ। আমরা চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।” এডিএমকে টিডিপি, বিজেডি, ওআইএস আর কংগ্রেসের উদ্দেশ্য তৃণমূল নেতা বলেন, আমি আপনাদের সতর্ক করছি এই মোদী শাহের দল একদিন আপনাদের পেছনে পড়বে।

তবে ভোটাভুটির সময় এই দলগুলো কক্ষ ত্যাগ করে। জেপি নাড্ডার কথায় বিজেপি এমন খেলোয়াড় নয় যে পরাজয়ের সম্ভাবনায় থার্ড আম্পায়ারকে দোষারোপ করবে। তিনি আরো বলেন, ‘ বিজেপি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আমরা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কখনো প্রশ্ন তুলিনি। হেরে গেলে ইভিএম-এর দোষ দিই না আমরা। ওরা আসলে ভয় পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *