আমাদের ভারত, ২০ সেপ্টেম্বর: রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সে কথা প্রায়ই বলতে শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কাজ তো পরের কথা চালু প্রকল্প চালিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে সরকারের বলে জানিয়েছেন বারবার। তাই আর্থিক হাল ফেরাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন বলে সূত্রের খবর।
সূত্রের খবর, বাংলায় বন্ধ কারখানার জমি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা অব্যবহৃত সরকারি জমি বিক্রি করে দেবে নবান্ন। এরফলে সরকারি জমি চলে যাবে সম্পূর্ণ বেসরকারি মালিকানায়। নবান্নের এক আমলার কথায় এখুনি ঢালাও জমি বিক্রি করা হবে না। শর্ত দিয়েই জমি বিক্রির পথে হাঁটবে নবান্ন। যে যে শর্ত রাখা হতে পারে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে সব জমি বিক্রি করা হবে তা রিয়েল এস্টেটের জন্য ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ জমি কিনে সেখানে অন্য কাজ করা যাবে না।
শোনা যাচ্ছে এই গোটা পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থ দপ্তরের প্রধান উপদেষ্টা তথা রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র মস্তিষ্কপ্রসূত। অমিত বাবুই নাকি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই ব্যাপারে প্রথম কথা বলেছিলেন। তাতে সম্মতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ভাবনাকেই বাস্তবায়িত করতে চাইছে নবান্ন। অমিতবাবুর ভাবনা হলেও তাঁর সরকার গ্রহণ করে নিয়েছে। আর সেটা বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও অর্থ সচিব মনোজ পন্থ।
বন্ধ কারখানার জমি বা অব্যবহৃত সরকারি জমি রিয়েল এস্টেটকে দিয়ে দেওয়া বাংলায় এই প্রথম নয়। বাম আমলেও তা হয়েছিল। হাওড়া হুগলিতে বহু জায়গায় বন্ধ কারখানার জমি রিয়েল এস্টেট সংস্থাকে তুলে দেওয়া হয়েছিল। হিন্দমোটর কারখানা সংলগ্ন জমিতেই এখন বহুতল নির্মীয়মাণ।
সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে নবান্ন সভাঘরে এই সব দপ্তর ও জেলা গুলিকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেইদিনই এই বিষয়ে চূড়ান্ত হয়, যে পড়ে থাকা সরকারি জমি ও বন্ধ কারখানার জমি বিক্রি করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যেমন দুর্গাপুরের ডিপিএলের জমি, কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা ১০ একর জমির মত বহু জমি নিলাম করে বিক্রি করা হবে। ধাপে ধাপে এই জমি বিক্রি করে কোষাগারের সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা আনতে চাইছে তৃণমূল সরকার।

