পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৮ নভেম্বর: লোকসভা নির্বাচনের আগে আদিবাসীদের একাধিক দাবিকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলে প্রথম সভা করল আইএসএফ- এর চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। শনিবার দুপুরে লালগড়ের রামগড় পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন রামগড় মাডোয়া ফুটবল ময়দানে বীরসা মুন্ডার জন্মদিবস স্মরণে সভা করেন সিদ্দিকী। দুপুর ১২ টায় সভার সময় থাকলেও প্রায় ৩ টের সময় সভা শুরু হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রায় একশো থেকে দেড়শো জন।
এদিন মঞ্চে নওসাদ সিদ্দিকী বক্তব্য রাখার সময় দাবি করেন, ১২ বছর আগে লালগড় যেমন ছিল এখনও সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে, কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং আরও নিচে নেমেছে। তিনি বলেন,”জঙ্গলমহল বিখ্যাত জায়গা, এক সময় লালগড়ের নাম শুনলে মানুষ চমকে উঠত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই লালগড়কে দেখিয়ে মানুষের কাছে ভোট চেয়েছিল। রাজ্যে পালাবদল এসেছিল। এই লালগড়ের অনেক ভূমিকা ছিল। আমরা কী দেখলাম? ১২ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল, কিন্তু লালগড়ের মানুষ সেই তলানিতে পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু কলকাতা শহরের বাবুরা মাঝেমধ্যে এখানে আসবে, বড় বড় ভাষণ দেবে, মানুষকে হুমকি দেবে আর চলে যাবে। কিন্তু লালগড় ও রামগড় এই এলাকার মানুষরা ১২ বছর আগে যেই অবস্থায় ছিল এখনও সেই অবস্থায় আছে”। রামগড়ের সভা আটকানোর জন্য তৃণমূল নেতৃত্ব ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করেছে বলেও দাবি করেন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “এই সভাটা হতে দেবে না বলে প্রশাসন এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের যোগসাজসে প্রচুর চেষ্টা করা হয়েছিল এই সভাকে বাতিল করার। অবশেষে বাতিল করতে পারেনি। আমার কাছে খবর আসছে যারা এই সভায় আসতে চাইছিল তাদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। লোক কম হয়েছে তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। বিপ্লবকে কখনো পুলিশ, গুন্ডা, মস্তান দিয়ে আটকে রাখা যায় না” ।

সিদ্দিকী আরো বলেন, “বিধানসভায় এসটি সমাজের ১৮ জন বিধায়ক রয়েছে বিজেপি বিধায়কদের মিলিয়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, একবারও শুনলাম না পাঁচ বছরে আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য কত টাকা খরচ করা হয়েছে এবং কোন কোন খাতে খরচ করা হয়েছে? এই তথ্যটা দিনতো। ১৮ টা বিধায়ক রয়েছে, একজনও প্রশ্ন করতে পারেনা”। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক তথা মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার নাম না করে সিদ্দিকী বলেন, “আপনাকে বলছি, চ্যালেঞ্জ করে বলছি। এলাকার একজন মন্ত্রী আছে তৃণমূল কংগ্রেসের। সৎ সাহস থাকলে পশ্চিমবাংলার বিধানসভার ভেতরে তিনি একবারের জন্য বলুক, ফেক এসটি এসসি সার্টিফিকেট যাদের আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যারা আদিবাসী নয়, তারা আদিবাসী সেজে প্রকৃত আদিবাসীদের চাকরিগুলো নিয়ে নিচ্ছে। মন্ত্রী মহোদয় এতটুকু কথা বলতে পারবেন তো? উনি বলতে পারবেন না, কারণ উনাকে এতোটুকু স্বাধীনতা দেয়নি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আজ বললে কাল উনার পদ কেড়ে নিতে পারে। আমি উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবির মহাশয়ের কি হলো? উনি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, মুসলিম মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১০০০ টাকা দেওয়া হোক তারপরেই উনার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হলো”।
সিদ্দিকী আরো দাবি করেন, আদিবাসী সমাজের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন পাঠনের উন্নয়নের জন্য পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠন করতে হবে। সাঁওতালি শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। সাঁওতালি মাধ্যমের স্কুলগুলিতে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের স্থায়ী শিক্ষক পদে নিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও সাঁওতালি সমাজের উন্নয়নের জন্য একাধিক দাবি তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে পেশ করেন।

