করণদিঘিতে স্কলারশিপ জালিয়াতি কান্ডে গ্রেপ্তার ২ স্কুল কর্মচারীকে ছাড়ার দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৯

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, রায়গঞ্জ, ২৮ জুলাই: প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ জালিয়াতি কান্ডে অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২ স্কুল কর্মচারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সেই অভিযুক্তদের ছাড়ানোর দাবিতে মঙ্গলবার রাতভর করণদিঘি থানার সামনে মদ্যপ অবস্থায় তান্ডব দুষ্কৃতীদের। ৪ ঘন্টা ধরে ৩৪ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলে আন্দোলন। ভোর রাতে পুলিশের ওপর আক্রমন চালায় ওই দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় আহত আইসি সহ ৯ জন পুলিশ কর্মী। গ্রেফতার ৯ আন্দোলনকারী। যার মধ্যে আছে লাহুতারা ২ এর প্রধান বাদিরুদ্দিন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ফাইজুল রহমান ও করণদিঘি ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি কৌশর বলে দাবি বিজেপির।

প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু স্কলারশিপ জালিয়াতি কান্ডে গ্রেপ্তার রাঘবপুর স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক তথা নোডাল শিক্ষক সাকির আলীমএবং সাবধান স্কুলের প্যারা টিচার এহেসান আলী। এই দুই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতার করে করণদিঘি থানার পুলিশ।
রাতে ওই গ্রেফতার হওয়া স্কুল কর্মচারীদের থানা থেকে ছাড়াতে কিছু স্থানীয় নেতৃত্ব করণদিঘি থানা ঘেরাও করে বলে পুলিশ সুত্রে জানাগেছে। নিজদের দাবি পূরণের জন্য রাত ১২টা থেকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দুষ্কৃতীরা। রাত ৩ টের পর পুলিশের ওপর চড়াও হয় তারা। এরপরেই র‍্যাফ ও পুলিশ বাহিনী ওই আন্দোলনকারীদের হঠিয়ে দেয়। গ্রেফতার হয় ৯ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই ধৃতদের মুক্তির দাবিতে একদল দুষ্কৃতি মদ্যপ অবস্থায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করার পাশাপাশি পুলিশকে আক্রমণ করে। এই হামলায় করণদিঘি থানার আইসি সহ ৯ জন পুলিশকর্মী আহত হয়। ধৃতদের এদিন আদালতে পেশ করা হবে।

বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু রায়গঞ্জের বোগ্রামে চায়ে পে চর্চায় বসে অভিযোগ করেন, “স্কলারশিপ জালিয়াতি কান্ডে কিছু তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস করণদিঘি থানায় তান্ডব চালায়, বোমাবাজি করে ও গুলি চালায়। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালা বোমাবাজি বা গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, শুনেছি তৃণমূল কংগ্রেস থানার সামনে আন্দোলন করছিল। কেন এই আন্দোলন সেটা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে তবেই বলা যাবে।

এবিষয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, স্কলারশিপ জালিয়াতি কাণ্ডে অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ছাড়ানোর জন্য একদল দুষ্কৃতি থানায় আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। রাত ১২টা থেকে চার ঘন্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখার পর পুলিশ গেলে পুলিশকে আক্রমন করে তারা। এতে আইসি সহ নয়’জন পুলিশকর্মী আহত হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবরোধকারিদের হঠিয়ে দেয়। এদিন সকালে নয়জন হামলাকারীকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *