আমাদের ভারত,২৯ মে: নারদ মামলায় শুক্রবার শুনানি শেষে মুক্তি পেলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়। শর্তসাপেক্ষে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এই চার নেতা মন্ত্রীর জামিন মঞ্জুর করলো।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল এবং বিচারপতি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মতানৈক্যের কারণে এই মামলায় বৃহত্তর বেঞ্চ গঠিত হয়েছিল হাইকোর্টে। তবে আজ ৫ বিচারপতি দ্রুত চারজনের জামিনের পক্ষে মত দিয়েছেন। শুনানির শুরুতেই সিবিআইয়ের জামিন মঞ্জুর না করার আবেদন খারিজ করে দেয় বৃহত্তর বেঞ্চ। খারিজ করে দেওয়া হয় প্রভাবশালীর যুক্তিও। আদালত বলে, এই চারজন আগেও প্রভাবশালী ছিলেন তাহলে তখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি কেন? চার্জশিট দেওয়ার পর কেন গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হয়ে পড়ল?
সিড়িআইয়ের আইনজীবী তথা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার উদ্দেশ্যে বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সিবিআই নারদ মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ২০১৭ সালে। এতদিন চার নেতা মন্ত্রী কে গ্রেফতার করেনি কেন? স্বাধীন তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকে। আগেও তো এরা প্রভাবশালী ছিলেন। তবে এখন চার্জশিট জমা দেওয়ার পর কেন গ্রেফতার করা হলো?”
জামিনে যে শর্তগুলো চারজনকে দেওয়া হয়েছে তা হল, চারজনকে ব্যক্তিগত দুলক্ষ টাকার বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। নারদ মামলা সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই চারজন সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো রকম মন্তব্য করতে পারবেন না। কোনো তথ্য-প্রমাণ বিকৃত করা যাবে না। তদন্তের স্বার্থে যখনই তদন্তকারী অফিসাররা ডাকবেন তখনই এই চারজনকে হাজিরা দিতে হবে।
যদিও এই চারজনের পক্ষের আইনজীবীরা অভিষেক মনু সিংভি আদালতের কাছে আর্জি জানান তদন্তকারী অফিসারদের কাছে এই চারজনের হাজিরার বিষয়টি যেন ভার্চুয়াল মাধ্যমে করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এই আর্জি জানানো হয়েছিল আদালতে যদিও তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আদালত।

