জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ মার্চ: রাজ্যের ১০৮ টি পুরসভার ২২৭৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে হারজিতের ব্যবধানের সর্বাধিক রেকর্ডটি খড়্গপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই এসেছে এবং সেই সর্বাধিক ব্যবধানের জয় পেয়েছেন খড়্গপুর শহরের ডাকসাইটে সুন্দরী গৃহবধূ নার্গিস পারভিন। ৩৮ বছর বয়সী সিপিআই প্রার্থী পারভিন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতাজ কুদ্দুসিকে পরাজিত করেছেন ৫২১৭ ভোটের ব্যবধানে।
রাজ্য জুড়ে ২২৭৪টি আসনে জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রায় ৮ হাজার প্রার্থী। ২রা মার্চ ভোট গণনার দিন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় বারংবার উঠে আসছিল বেশি ব্যবধানে জয় পাওয়া প্রার্থীদের মুখ। সেদিন বেশি ব্যবধানে জয়ী যে সমস্ত প্রার্থীর নাম একাধিকবার টিভির পর্দায় ভেসে উঠছিল তাঁর মধ্যে ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের পুত্রবধূ মেঘনা মিত্রের নাম। কামারহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মেঘনা তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৪৫৭০ ভোটে পরাজিত করেছেন। এড়িয়ে গেছিল নার্গিসের নাম। শুধুমাত্র সর্বাধিক ব্যবধানই নয়, ভোট প্রাপ্তির হারের নিরীখেও রাজ্যের বিরোধী যে সমস্ত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন তাঁদের মধ্যেও রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে নার্গিসের নাম। খড়্গপুর পুরসভার ওই ওয়ার্ডে মোট বৈধ ভোটের পরিমাণ ছিল ৯৮৬১ যার মধ্যে নার্গিস পেয়েছেন ৭৪৭৩টি ভোট।
অর্থাৎ নার্গিস প্রায় ৭৬% ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের মমতাজ কুদ্দুসি ২২৫৬টি ভোট পেয়েছেন যা প্রদত্ত ভোটের মাত্র ২৩%। এই ওয়ার্ডে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছিল।
তিন কন্যার মা নার্গিসের বাপের বাড়ি হাওড়া জেলার বাকড়া এলাকায়। গ্রাজুয়েশন করার পর দেড়দশক আগে তাঁর বিয়ে হয়ে খড়্গপুর শহরের পাঁচবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা সেক সাইজাদের সঙ্গে। সাইজাদ একজন বড় মাপের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী। একসময়ের তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক সাইজাদ ২০০৫ সালে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন এই ওয়ার্ড থেকেই কিন্তু বামপন্থার দুর্গ এই এলাকা থেকে জয়ী হতে পারেননি তিনি। ২০১০ সালে এই আসন থেকে তৃণমূলেরই হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন খোদ নার্গিস কিন্তু সেবারও লালঝান্ডার কাছে পরাজয় হয় নার্গিসের। প্রতিবারই জয়ী হয়েছেন সাইজাদ ও নার্গিসের বিরোধী পক্ষে থাকা মমতাজ কুদ্দুসি কিংবা তাঁর স্বামী সেক হানিফ।
২০১৫ সালে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন সিপিআই প্রার্থী সেক হানিফ। সেবার অবশ্য সাইজাদ বা নার্গিসকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। ভোটে জেতার পর সেক হানিফ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং খড়্গপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে চলে আসেন। ২০১৯ সালে সেক সাইজাদ সিপিআইয়ে যোগ দেন। এবার আসনটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় সাইজাদ ফের নার্গিসকেই এগিয়ে দেন লড়াইয়ে।

