আমাদের ভারত, ২৪ জুন : জনসমক্ষে নন্দীগ্রামের পরাজয় স্বীকার করে নিলেও নির্বাচনী পরাজয়কে মেনে নিতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। ২মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ হন নন্দীগ্রাম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তাই এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বৃহস্পতিবার মমতা ব্যানার্জীর উপস্থিতিতেই পিটিশনের শুনানি হয় বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে । বিচারপতি কৌশিক চন্দ সম্পর্কে পক্ষপাতিত্বের সংশয় প্রকাশ করে মামলা অন্য বেঞ্চে বদলির আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনই মাননীয়া গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করার হুশিয়ারি দেন। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৭৪০ ভোটে পরাজিত হন মাননীয়া। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেদিন প্রথমে ১২০০ ভোটে মমতা জয়ী হন বলে খবর আসে। কিউ তার ৩ ঘন্টা গণনা বন্ধ করে রাখার হয় এবং জানানো হয় শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন। এরপর মমতা ব্যানার্জী মোবাইলে একটি মেসেজ দেখিয়ে সংবাদ মাধ্যমে জানান যে, নন্দীগ্রামে রিটার্নিং অফিসারকে বন্দুক দেখিয়ে শাসানো হয়েছে যেন পুনর্গননার নির্দেশ না দেওয়া হয়। এছাড়াও নন্দীগ্রামে মেশিন পালটে দেওয়াও অভিযোগ করেন তিনি।
এই অভিযোগ নিয়ে মমতা ব্যানার্জী সহ তৃণমূল নেতৃত্ব ইলেকশন কমিশনকে লিখিত আবেদন জানিয়ে নন্দীগ্রামে পুনর্গণনার দাবি করেন। ইলেকশন কমিশন তাদের সেই দাবি খারিজ করে দিলে ২১মে মমতা ব্যানার্জী আদালতে আবেদন জানান। ৩১ মে মামলার প্রথম আবেদন রুজু হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘবি।
সূত্রের খবর, পর পর দুটি বেঞ্চে মামলা ওঠার পর তৃতীয় বার মামলা ওঠে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। প্রথম শুনানি হয় ১৬ জুন। কিন্তু মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতির কারণে বিচারপতি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
সেই মত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল শুনানি হয়। শুরুতেই বিচারপতির কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীকে। তাঁর বেঞ্চে মামলা পাঠানোয় তৃণমূলের আপত্তি, নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় এবং শুনানির আগের দিনে বার কাউন্সিলের অবস্থান বিক্ষোভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবিকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি। মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী বলেন ,বিচারপতি কৌশিক চন্দ আইনজীবী থাকাকালীন বিজেপির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা লড়েছেন। তিনি বিজেপির লিগ্যাল সেলের প্রধান ছিলেন। একই ভাবে বিজেপি নেতাদের সাথে বিচারপতির ছবির কথা উল্লেখ করেই বিচারপতিকে বিজেপির ঘনিষ্ঠ আইনজীবী বলে দাবি করেন। এই কারণেই তিনি নন্দীগ্রাম মামলায় নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এমনকি এই মামলা থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে বক্তব্যের পক্ষে বেশ কয়েকটি টুইটেরও উল্লেখ করেন আইনজীবী।
বিচারপতির সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই শুনানির আগের দিন হাইকোর্টে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বার কাউন্সিলের সদস্যরা। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানান, উপস্থিত সকলেই কোন না কোন রাজনৈতক দলের সঙ্গে যুক্ত কিংবা দলের সমর্থক কিন্তু তাদের প্রথম পরিচয় তাঁরা একজন আইনজীবী। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আইনজীবীর আর্জি মতো নন্দীগ্রাম মামলা হাইকোর্টে অন্য বেঞ্চে সরানোর দাবি বিবেচনা করবেন। ফলে মামলা আজও স্থগিত রাখলেন বিচারপতি। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সম্পর্কে এমনকি মামলার শুনানি আদৌ চলবে কিনা সে সম্পর্কে কোন নির্দেশ দেয়নি বেঞ্চ।

