দলীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে পুরপ্রধান নিয়ে ‘নাখুস’ বার্তা পুরুলিয়ার ৬ তৃণমূল কাউন্সিলরের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৩ মার্চ: শপথ নেওয়ার পরই দলীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে পুরপ্রধান নিয়ে খুশি না থাকার বার্তা দিলেন পুরুলিয়ার ৬ কাউন্সিলর। দলীয়ভাবে নাম ঘোষণার দিন থেকেই চর্চা চলছিলই, আজ প্রকাশ্যে ওই ছয় কাউন্সিলর সেই ইঙ্গিত খানিকটা স্পষ্ট করলেন। পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই নিয়েই আড্ডা চলল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত।

জেলার পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুর পৌরসভার বোর্ড গঠন করল তৃণমূল। পৌর নির্বাচনে জয়ী কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ হল আজ। পুরুলিয়া পৌরসভার গান্ধী হলে শপথ বাক্য পাঠ করান পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসক। রঘুনাথপুর পৌরসভার কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ করান রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক। পুরুলিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নবেন্দু মাহালি ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ময়ূরী নন্দী। রঘুনাথপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারিণী বাউরী ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন স্বপ্না চক্রবর্তী। পরে পুরুলিয়া পৌরসভা চত্বরে তৃণমূল শহর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জয়ী কাউন্সিলরদের একটি সম্বর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের জয়ী কাউন্সিলরদের সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। আর সেখানেই না থেকে কার্যত বয়কট করলেন টানা পাঁচ বারের কাউন্সিলর বৈদ্যনাথ মন্ডল, সুনয় কবিরাজ, বিভাস দাস, সমীরণ রায়, রবি শংকর দাস ও প্রদীপ ডাগা। অনুপস্থিত থাকার কারণ হিসেবে এঁদের অধিকাংশেরই সাফাই, “কাজ ছিল তাই শপথ অনুষ্ঠানের পরই বেরিয়ে যাই।”

পরে একটি জায়গায় বৈঠক করেন ছয় কাউন্সিলর। ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাও। তাঁরা ঘনিষ্ঠ মহলে জানান, চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা আদতে গটআপ। প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারপার্সন থাকা কালীন সব করে গিয়েছেন। ওয়ার্ডের কোনও কনভেনরকে পাত্তাই দেননি। ফলে উন্নয়ন থমকে যায়। বকেয়া পড়ে যায় অস্থায়ী কর্মীদের বেতন, পেনশন। অথচ, এক একটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত জন প্রতিনিধি রয়েছেন। পাড়ায় পাড়ায় জবাব কী দেব?”

ওই সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া সহ জেলা নেতৃত্ব। দলীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে ছয় জন কাউন্সিলরের অনুপস্থিতির কারণ অজানা জেলা সভাপতির কাছেও। তিনি বলেন, “হয়তো কাজ থাকতে পারে। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।”

পুরুলিয়া শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জ্যোতির্ময় ব্যানার্জি বলেন, “দল সব দেখছে। আমার কিছু বলার নেই। আমি সবাইকেই সন্মান জানিয়েই আহ্বান জানিয়েছি।” সাত দিন আগে পর্যন্ত পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের নাম অন্য ছিল বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। সেই নাম রাতারাতি বদল হয় বলে সত্যতা ফাঁস হয়ে যায়। আর এতেই গোঁসা ছয় কাউন্সিলরের। অভিমান থেকেই ভাঙনের রাজনীতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন জেলার অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *