DM, Nadia, SIR, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়াদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তি, দিকনির্দেশ নদিয়া জেলাশাসকের

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৬
এপ্রিল: নদিয়ার কৃষ্ণনগর প্রশাসনিক ভবনে সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক নৃপেন্দ্র সিং। মূলত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন জেলাশাসক।

জেলাশাসক জানান, যেসব নাগরিকদের নাম ডিলিট করা হয়েছে, তাদের জন্য ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই আবেদন করার জন্য দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে, যথা অনলাইন এবং অফলাইন। যারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছন্দ, তারা নিজেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে লগইন করে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, যারা অনলাইনে দক্ষ নন বা অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন, তাদের জন্য প্রশাসনের তরফে অফলাইন সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদিয়ার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কল্যাণী এবং তেহট্টে, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার জন্য বিশেষ সেন্টার গঠন করা হয়েছে। এই সেন্টারগুলিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।

এদিন কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্রভবনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এই উদ্যোগে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, যারা অনলাইনে আবেদন করতে সক্ষম, তারা যেন সেই পদ্ধতিকেই অগ্রাধিকার দেন। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচবে এবং প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হবে। জেলাশাসকের এই উদ্যোগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আরও বেশি মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক নিপেন্দ্র সিং জানান, অনলাইন আবেদনপত্রটাই সবথেকে সুবিধা জনক। যেটি নিজের মোবাইল থেকেও করা যায়। এমনকি সাইবার ক্যাফে থেকেও করা যেতে পারে। অনলাইন আবেদন জমা দিলে পরে অন্য কোথাও আপনাকে যেতে হবে না। আবেদন করার পর একটি অ্যাপিল আইডি অর্থাৎ একটি নম্বর পাবেন। ওই অ্যাপেল নম্বরটাই আপনার কাছে রিসিভ কপি হিসেবে রেখে দেবেন। যখন ওখানে আপনি অনলাইনে আবেদন করতে যাবেন তখন দেখবেন আপনার এর আগের ভোটার আইডি কার্ড, যেটা দিয়ে আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন ওটা চাওয়া হচ্ছে। যখন সেই ভোটার আইডি নম্বরটা দেবেন অটোমেটিক্যালি আপনার নাম ঠিকানা সমস্ত কিছু চলে আসবে। এরপর পরের ধাপ থাকবে আপনি শুনানিতে কোথায় গিয়েছিলেন সেখানে কী হলো সেই সমস্ত কিছু আবেদন করার জায়গা। তার সঙ্গে ট্রাইবুনালের কাছ থেকে কী রিলিফ চাইছেন সেই সম্পর্কে মোটামুটি জানাতে হবে অনলাইন ফর্মে।

অনলাইন আবেদন করাই সবথেকে ভালো, কিন্তু যাদের ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটি নেই, কিংবা গ্রামাঞ্চলে থাকেন সেই সমস্ত নাগরিকদের জন্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে জেলাশাসকের বিভিন্ন জায়গাতে। প্রত্যেকটা জেলাশাসকের অফিসের সামনে একটি করে ট্রাইব্যুনালের আবেদনের জায়গা করা হয়েছে, যার সময়সীমা মোটামুটি সরকারি অফিস টাইমের মতই। সকাল দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা বা ছয়টা পর্যন্ত। ১ এপ্রিল থেকে এই সমস্ত কাউন্টার গুলির সুবিধা চলছে। কুড়ি দিন কিংবা ২৫ দিন যতক্ষণ না আমরা সম্পূর্ণটা শেষ করতে পারছি এই ফর্মগুলো নিতেই থাকবো। যদিও সময়সীমা এর মধ্যে কোনো কিছু নেই। কখনো প্যানিক করবেন না যে আপনার সময় চলে যাচ্ছে, অনেকেই প্যানিক করে খবর পাওয়া মাত্রই কৃষ্ণনগর ডিএম অফিস থেকে চলে আসছে দূর দূরান্ত থেকে। তেহট্ট, করিমপুরের লোকেরাও ডি এম অফিসে চলে এসেছে, যার জন্য অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে জানানো হচ্ছে, ঘাবড়ানোর দরকার নেই।

আপনার বাড়ির নিকটবর্তী যেই সাব ডিভিশনাল অফিস রয়েছে সেখানেও ফর্ম জমা দেওয়ার জায়গা করা হয়েছে জেলাশাসকের পক্ষ থেকে। আপনাদের অনুরোধ যে যার নিজের পার্শ্ববর্তী এসডিও অফিসে জমা দিন। এছাড়াও একই বাড়িতে যদি দুই অথবা তিন জন সদস্যের নাম কেটে যায়, তার জন্য প্রত্যেকের ট্রাইবুনালের ফর্মে ফিলাপ করতে আসার প্রয়োজন নেই, বাড়ির একজন সদস্য বাকি সমস্ত সদস্যর ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *