৩ থেকে ৭৭ হয়েছি, ৭৭ থেকে ২০০ পার করব, পশ্চিমবঙ্গে ভবিষ্যৎ আমাদের: জেপি নাড্ডা

আমাদের ভারত, ২৯ জুন: ২০০ আসনের লক্ষ্য ঠিক করে বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু লক্ষ্যের চেয়ে অনেকটা দূরেই থেমে থাকতে হয়েছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের কর্মসমিতির বৈঠকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তার স্পষ্ট বার্তা এই রাজ্যে ভবিষ্যৎ তাদের, কেউ কোনোভাবে সেটা আটকাতে পারবে না। ৩ থেকে ৭৭ হয়েছি, ৭৭ থেকে দুশো পার করব।

কর্মী বাহিনীর আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে আজ দাওয়াই দিলেন জেপি নাড্ডা। তার কথায় বাংলায় বিজেপি অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। ২০১৪ তে মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। বাবুল সুপ্রিয় এবং আলুওয়ালিয়া শুধুমাত্র ছিলেন সাংসদ। ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। ২০১৬ সালে মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল বিজেপি। ভোটের হার ছিল ১০.১৬ শতাংশ। সেটাই ২০১৯ সালে ৪০.৫০ শতাংশে পৌঁছায়। ৪২ এর মধ্যে ১৮ টি আসনে জিতেছে বিজেপি। রাজ্যের ২ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের সমর্থন পেয়েছে বিজেপি। বিধানসভা ভোট পেয়েছে ৩৮.১ শতাংশ। প্রায় ২ কোটি ২৭ লক্ষ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে।

তিনি বলেন, “৩ থেকে ৭৭-এ পৌঁছেছি আমরা। এটা বড় প্রাপ্তি। বাংলায় তৃণমূলের বিরোধী শক্তি শুধুমাত্র এখন বিজেপি ছাড়া আর কেউ নয়। তিনদশক ক্ষমতায় থাকা সিপিএম শেষ হয়ে গেছে। আড়াই দশক ধরে কংগ্রেস রাজত্ব চালিয়েছিল সেও আর নেই। আর এত কম সময় লড়াই করে আজ বিজেপি এখানে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি আরো বড় লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি আরো বড় লক্ষ্যে পৌঁছবে। পরের বার ক্ষমতায় আসবে। আমরা লক্ষ্য পূরণ করবোই।”

একইসঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হন জেপি নাড্ডা। তার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি,”গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালিয়ে নাস্তানাবুদ করব তৃণমূল সরকারকে। শাসকদলের যে দমনের মানসিকতার তৈরি হয়েছে গণতান্ত্রিক পথে তা ধ্বংস করব।” তিনি বলেন, কেরল, পদুচেরি, তামিলনাড়ুতেও ভোট হয়েছে। কোথাও নির্বাচনের পর এত হিংসা হয়নি। কারণ সেখানে তৃণমূল নেই। যেখানে তৃণমূল আছে সেখানেই হিংসা।”বিজেপির ১২৫৮ জন কর্মীর ওপর হামলা হয়েছে। ১৩৯৯ জন মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। ৬৭৬টি লুঠের ঘটনা ঘটেছে। একশোর উপরে পরিবারকে লাগাতার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। বিজেপির কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে আরামবাগ বিষ্ণুপুরে। অত্যাচারিত হয়েছে মহিলারা।

আজকের বৈঠকে কর্মীদের তিনি আহ্বান জানান, “দীর্ঘ লড়াই করতে হবে আমাদের। ময়দান ছাড়া যাবে না। ২০২৬ এর জন্য এখন থেকেই পথ তৈরি করা শুরু করতে হবে। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *