নবান্ন অভিযান কার্যত জনগণের আন্দোলনে পরিণত, সফল বঙ্গ বিজেপি ব্রিগেড

শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ১৪ সেপ্টেম্বর:
নবান্ন অভিযানে আজ প্রথম থেকেই একের পর এক নেতা কর্মসূচিতে যোগ দিতে না দিতেই গ্রেফতার হয়েছেন। আর বিরোধীরা নেতাদের এই গ্রেফতার হওয়াকে তাদের দুর্বলতা হিসেবে ব্যঙ্গ করেছেন। নেতাহীন আন্দোলন বলে ব্যাখা করেছেন তারা।

কিন্তু বিজেপির মতো একটা জাতীয় স্তরের দল কি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এতো বড় কর্মসূচি নেবে। যেখানে এখন কেন্দ্রীয় বিজেপির তাবড় তাবড় পোড় খাওয়া নেতারা বাংলার পদ্ম শিবিরের দায়িত্বে রয়েছে। রাজনৈতিক হিসেব কিন্তু বলেছ অন্য কথা।

এবার আন্দোলনকে কিন্তু বিজেপি জনগণের আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। আর আজ কার্যত সেটাই দেখা গেছে সারাদিন ধরে। নেতারা যারা কিনা ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান, তাদের শুরুতে গ্রেফতার করলেও খেলা উতরেছে কিন্তু কর্মী সমর্থকরা। এরফলে এই আন্দোলনকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে জনগণের আন্দোলনে পরিণত করতে পেরেছে বিজেপি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা রাজনৈতিক দল যখন কোনো আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলনে পরিণত করতে পারে তখন সেটা অন্য মাত্রা পায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

অন্যদিকে, একটি বিষয়কে যদি খুব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে দেখা যায় তাহলে বোঝা যায়, আজকের পুরো ঘটনাটা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেছে। আর তার অন্যতম উদ্দেশ্য খবরের শিরোনামে থাকা সারাদিন ধরে। কার্যত এক্ষেত্রে বঙ্গ বিজেপি অনেকাংশেই সফল। কারণ গতকাল থেকেই সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে নবান্ন অভিযানের খবর ছিল। মঙ্গলবারও তার অন্যথা হয়নি। মঙ্গলবার গোটা দিন খবরে ছিল পদ্ম শিবির। কখনো নেতারা কখনো ক্যাডাররা। খবর থেকে সরে যাননি তারা। আর সারাদিন ধরে সংবাদ মাধ্যমে জুড়ে থাকার মাইলেজ পদ্ম শিবির আগামী দিনে পাবেই।

দেখা যায় দিনভর শিরোনামে থাকতে গোটা কর্মসূচিকে কয়েকটি পর্বে ভাগ করেছিল বিজেপি। আজ ঘটনাক্রমে ঘটেছে সব একের পর এক। সাঁতরাগাছি যাওয়ার পথে শুভেন্দু আটক হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বচসার পর তিনি প্রিজন ভ্যানে উঠেছেন।তারপরই গোলমাল তৈরি হয়েছে সাঁতরাগাছিতে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের মুখোমুখি হয়েছে বিজেপির ওই মিছিলের কর্মী সমর্থকরা। এরপর সুকান্ত অগ্নিমিত্রার নেতৃত্বে হাওড়া ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়েছে। ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে। সুকান্তরা বসে অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন রাস্তায়। অন্যদিকে তৃতীয় মিছিল একটু বিলম্বিত লয়ে চলতে শুরু করে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে। সেটি হাওড়া ব্রিজের কাছে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। সেই মিছিলও জল কামান এর মুখোমুখি হয়। তারপরেই লালবাজারের উদ্দেশ্যে বিজেপি রাজ্য দপ্তর থেকে আকস্মিক মিছিল শুরু হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছিল দীর্ঘক্ষণ। এমন কি ধৃত নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে লাগাতার নিজেদের বক্তব্য পেশ করে সংবাদে থেকেছেন। বাদ যায়নি কোর্ট চত্বর। সেখানেও মামলা হয়েছে আজকের অভিযানকে কেন্দ্র করে।

ফলে এই ঘটনা ক্রম থেকে স্পষ্ট হচ্ছে বিজেপি নেতাদের দিনভর সংবাদ মাধ্যম জুড়ে থাকার উদ্দেশ্যে সার্বিক ভাবে সফলতা পেয়েছে। কারণ প্রতিটি জায়গার ঘটনা পরপর আলাদা আলাদা করে সম্প্রচারিত হয়েছে।

রাজ্য বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, তাদের আন্দোলন সফল। কারণ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রশাসনের বাধা সত্বেও লোক এসেছে এবং তারা ময়দানে দৃঢ় ভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। এরফলে সামগ্রিক ভাবে জেলা থেকে শুরু করে যেখানে নেতা কর্মীর অভাব ছিল সেখানে সংগঠন মজবুত হবে। কারণ এই কর্মসূচিতে এসে ফিরে যাওয়া কর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজ দেবে তুলনামূলক দুর্বল সাংগঠনিক ক্ষেত্রকে শক্ত করতে। আখেরে পঞ্চায়েত ভোটের আগে গ্রাম ভিত্তিক সংগঠন শক্ত হলো। বেশকিছু নতুন নেতা কর্মীর হদিশ পাওয়া গেল। ফলে তৃণমূল স্তরে সংগঠন মজবুত হলো। আর একা লড়াই করার সাহস তারা বুকে নিয়ে আজ এলাকায় ফিরলেন।

সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরে থাকাকেও সাফল্য হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ দুর্নীতির অভিযোগের সামনে এখনো পর্যন্ত তৃণমূলের ঢাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের দিন জেলা সফরে থেকে বিজেপির হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার কাজ করেছেন বলেই দাবি করেছেন পদ্ম নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *