রহস্য! মধ্যরাতের বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হিলির চৌদ্দহাতের কালীপ্রতিমা, কাঠগড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৭ নভেম্বর: রহস্য উস্কে মধ্যরাতের বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হিলির চৌদ্দহাতের কালী প্রতিমা। সিসিটিভি না থাকায় প্রশ্ন চিহ্নে দাঁড়িয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের ভুমিকা। কাঠগড়ায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। যদিও ঘটনা পুরো পরিকল্পিত বলেই দাবি করেছে বিজেপি। রবিবার সকালে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হিলির পশ্চিম আপ্তৈরের এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়।

জানা যায়, হিলির পশ্চিম আপ্তৈরে ১৯৭২ এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাসিন্দারা চালু করে কালীপুজোর। প্রথমে ছোট থাকলেও পরে তা চৌদ্দহাতে গিয়ে দাঁড়ায়। বিশাল মাপের এই দেবি পুজোকে ঘিরে প্রতিবারের মতো এবছরও সীমান্তে বসেছিল ১৫ দিন ব্যাপী বিরাট মেলা। বুধবার রাতে দেবির পুজোর মধ্যদিয়েই শুরু হয়েছিল সেই মেলা। যে পুজো ও মেলাকে ঘিরে বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল এলাকায়। কিন্তু তারই মাঝে শনিবার রাত তিনটে নাগাদ আচমকা আগুন জ্বলতে থাকে দেবী প্রতিমার শরীরে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা সেই আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিশালাকার সেই চৌদ্দহাত কালী।

স্থানীয়রা ছুটে এসে জল দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। যে ঘটনাকে ঘিরে এদিন সকাল থেকে কার্যত কান্নার রোল পড়ে যায় ভক্তদের মধ্যে। যদিও এই ঘটনায় কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে বিশাল মাপের এই কালীপুজো ও তাকে ঘিরে এলাকায় যে বিরাট মেলার আয়োজন হয়েছিল তার নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন? যা নিয়ে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে হিলির চৌদ্দহাত কালীপুজো কমিটি। এতবড় মাপের পুজো ও মেলাতে কেন আগে থেকে কোনও সিসিটিভির নজরদারি রাখা হয়নি? দমকল বাহিনীকেই বা মেলার কয়েকদিন কেন অস্থায়ী ভাবে রাখবার ব্যবস্থা করা হয়নি কমিটির তরফে? এই ঘটনায় জোড়ালো হয়েছে সেসব প্রশ্ন।

শুধু তাই নয়, মেলাকে ঘিরে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হলেও ওইদিন রাতে তাদের চোখের আড়ালে কিভাবে দেবী প্রতিমার গায়ে আগুন লাগলো? চটজলদি কেনই বা তা থামানো গেল না? একাধিক এমনই সব প্রশ্ন সামনে এসেছে এদিনের এই ঘটনাকে ঘিরে। যদিও এই ঘটনাকে সরাসরি ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত বলেই দাবি করেছে জেলা বিজেপি।

বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে এই আগুন লাগানো হয়েছে। জেলার অতি প্রাচীন একটি পুজো বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে। ঘটনা কারা ঘটালো বা কিভাবে ঘটলো সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি বা পুলিশি নজরদারি কোথায় ছিল? যেসব বিষয় তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানবার জন্য গেলেও তাদের সাথে কথা বলতে চাননি পুলিশ আধিকারিকরা।

এদিকে এই ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ধামাচাপা দিতে চাইছেন হিলির চৌদ্দহাত পুজো কমিটির সম্পাদক মিহির সরকার। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক এই ঘটনা। মানুষের চলতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হয়, কিন্তু সেটা ওভারকাম করতে হবে। আমরা আবার একটি ছোট দেবীর প্রতিমার পুজো করে সাতদিন ব্যাপী মেলাটি অব্যাহত রাখবো।

বিষয়টি নিয়ে অবশ্য সেভাবে মুখ খুলতে চাননি পুলিশ আধিকারিকরা। শুধুমাত্র ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে হিলি পুলিশের তরফে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *