আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৩ মার্চ: এক যুবতীর রহস্য মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো শ্যামনগর গুড়দহ মাতৃপল্লীতে। মৃতা বছর ২৬- এর রিয়া মুখার্জির মৃতদেহ মঙ্গলবার রাতে নৈহাটি থানার জিআরপি শ্যামনগর স্টেশন সংলগ্ন ২৫ ও ২৬ নম্বর রেলগেটের মধ্য থেকে উদ্ধার করে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী মৃত দেহ উদ্ধারের সময় মৃতার হাতে ছিল মোবাইল ও কানে হেডফোন গোঁজা।মঙ্গলবার দুপুরে রিয়া চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়, কিন্তু সন্ধে গড়িয়ে গেলেও বাড়ি ফিরে আসেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাতৃপল্লীর বাসিন্দা রিয়ার সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল গুড়দহ শালবাগান এলাকার বাসিন্দা অসীম হাওলাদার ওরফে বুটুর।
অভিযোগ, সন্ধে বেলা মৃতার প্রেমিকই রিয়ার পাড়ায় এসে স্থানীয় ক্লাবে রিয়ার খোঁজ করে। সেই সময় ক্লাবের সদস্যরা রিয়ার বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে বললে সে যেতে অস্বীকার করে। আর এতেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মৃতার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এরপর রাতে জিআরপি রিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের খবর দেয়। রিয়ার পরিবারের দাবি, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হলে মোবাইল ফোন ছিটকে অন্যত্র পড়তো। কিন্তু এক্ষেত্রে মোবাইল ফোন মৃতার হাতেই ছিল।

মৃতার আত্মীয়দের অভিযোগ, বুটুর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়ে গেলেও রিয়ার সঙ্গে মেলামেশা করতো সে। মৃতার মা ও দিদির অভিযোগ, তাদের মেয়েকে মেরে রেললাইনে ফেলে দিয়েছে বুটু। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি করেছেন মৃতার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এদিন মৃতার দিদি বলেন, “বুটু আমার বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রেখেছিল যদিও তার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়ে গেছিল।
অনেকবার বুটু’কে আমার বোনের সাথে মেলামেশা করতে বারণ করা হলেও সে শুনত না। আমার বোনকে একা ডেকে নিয়ে যেত। ওই আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। ওর শাস্তি চাই।”
জগদ্দল থানা ও নৈহাটি জিআরপি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জগদ্দল থানার পুলিশ মৃতার প্রেমিক অসীম ওরফে বুটুকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে।

