সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ জুলাই: পুরুলিয়া শহরের সাহেব বাঁধ সরোবরে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্যু হল এক সিআইএসএফ জওয়ানের।
জানা গিয়েছে, প্রায় ২৭ বছর বয়সী জওয়ানের নাম সুমন মুখার্জি। পুরুলিয়া শহরের হুচুকপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন ওই জওয়ান। উত্তরাখন্ডে কর্মরত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর ছুটিতে নিজের বাড়ি ফেরেন গত শনিবার। কাল রাতে বন্ধুদের সাথে পার্টি সেরে আজ সকালে বন্ধু বান্ধবদের সাথে পুরুলিয়া শহরের সাহেব বাঁধ সরোবরে স্নান করতে নামেন ওই জওয়ান। এরপরই জলে তলিয়ে যান তিনি।

জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে সাহেব বাঁধের রক্ষীরা স্থানীয় সদর থানায় খবর দেন। সদর থানার পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সাহায্যে তল্লাশি শুরু করে। খবর দেওয়া হয় রাজ্যের নাগরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধারকারি দলকে। ততক্ষণে সাহেব বাঁধের রাস্তায় বিশাল ভিড় হয়ে যায়। খোঁজ খবর নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি, সমাজসেবী পার্থপ্রতিম ব্যানার্জি সহ অনেকেই। তার মধ্যেই রঘুনাথপুর সদর দফতর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ১৬ সদস্যের দল। প্রায় ৪ ঘন্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর দুপুর ১২-২৫ নাগাদ জওয়ানের দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃত জওয়ানের বাবা দীপক মুখার্জি বরাবাজার থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। বাড়িতে খবর পেয়ে তিনিও ছুটে আসেন। ছুটে আসেন আত্মীয় স্বজনরাও। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মৃতের কাকা অসীম মুখার্জি তাঁর ভাইপোর মৃত্যুর জন্য দুই বন্ধুকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, “এক বন্ধুর জন্মদিন পালনের জন্য রাতে তারা ছিল। রাতে ওদের সঙ্গে দেখাও হয়েছিল। আজ সকালে কীভাবে দুই বন্ধুর সামনে জলে ডুবে গেল? দুই বন্ধু চিৎকার করে সাহায্য চাইল না। এটাই আমাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।”

পরিস্থিতির কথা ভেবে ধৃত দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সদর থানার পুলিশ। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে সব কিছু খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

