অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৯ ডিসেম্বর:
‘ময়মনসিংহ প্রাক্তনী‘-র ‘শেকড়ের টানে মৈত্রীবন্ধন’ আক্ষরিক অর্থেই সফল হল রবিবার সন্ধ্যায়। ওপার বাংলার আবেগ যেন ভাসিয়ে দিল বক্তাদের স্মৃতিচারণে। এই সঙ্গে আর্জি এল ঐতিহ্য সংরক্ষণের।
এ বছর ‘ময়মনসিংহ প্রাক্তনী‘-র রজত জয়ন্তী বর্ষ। এদিনের অনুষ্ঠানে ‘ময়মনসিংহ রত্ন’-তে ভূষিতা গৌরীয় নৃত্যশিল্পী ও গবেষক মহুয়া মুখোপাধ্যায় বলেন, “অখন্ড বাংলা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে দীর্ঘকাল মিশে আছে গৌরীয় নৃত্যের ঐতিহ্য। একে চোখের মণির মত রক্ষা করতে হবে।” সংগঠনের শিলিগুড়ির আজীবন সদস্য শিক্ষকতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ডঃ বিমল কুমার চন্দকে পুস্পস্তবক ও স্মারক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের সভাপতি বিকাশ সান্যাল। খড়্গপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ অমিতাভ দত্ত মজুমদার এবং লেখিকা ও সমাজসেবী সঞ্চিতা সেনগুপ্তকেও অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনা জানানো হয়।
বিমলবাবু ভাষণে রাজ্যের বন দফতরের সহযোগিতায় উত্তরবঙ্গে তাঁর মাছ-সমীক্ষার কথা বলেন। তাঁর কথায়, ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনেক কিছু বাঁচানোর আবেদন করা হয়। কিন্তু মাছ সংরক্ষণের কথা কেউ বলেন না। কারণ, মাছ খাওয়ার জিনিস। ভাওয়াইয়া, চটকায় এই সব মাছ ভীষণভাবে মিশে গিয়েছে। যুগান্তরের সাথে সাথে অনেক মাছ হারিয়ে গিয়েছে। এই মাছ বাঁচাতে হবে। একটি বইয়ে এসব প্রকাশ করেছি। রাজবংশী-সহ স্থানীয় জনজাতিদের মধ্যে এ নিয়ে চেতনা আনার চেষ্টা করেছি।
৮১ বছরের অমিতাভ দত্ত মজুমদার কিশোরগঞ্জে তাঁর পৈত্রিক বাড়ির কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৪৭-এর আগেই আমরা চলে এসেছিলাম। কিন্তু স্মৃতি রয়ে গিয়েছে ওপারে।“ সঞ্চিতা বলেন, “আমার বাবা প্রাথমিক শিক্ষার পরেই চলে এসেছিলেন এপারে। তাঁর মুখে হাওড়, নেত্রকোনা প্রভৃতির গল্প শুনতে শুনতে নিজের অজান্তেই অধুনা বাংলাদেশের প্রেমে পড়ে গিয়েছি। ময়মনসিংহে যাওয়া হয়নি। কিন্তু ওপারের অভিজ্ঞতা আর অনুভব বন্দি করেছি দুই মলাটে। আগামী বইমেলায় তা প্রকাশ পাবে।”

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অর্দ্ধে ছিল ছোটদের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। যোধপুর পার্কে শহিদ সূর্য সেন ভবনের এই অনুষ্ঠানে সংযোজনায় ছিলেন সংগঠনের অন্যতম কর্তা দেবব্রত গোস্বামী। সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়-সহ স্বাগত জানান অতিথিদের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন হয় এদিন।

