‘দাদার কীর্তির জন্য আমার চাকরিটা না চলে যায়,’ রীতিমত আতঙ্কে দেবাঞ্জনের বোন

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৮ জুন: দেবাঞ্জনের কীর্তি রীতিমতো বিপদে ফেলে দিয়েছে তার পরিবারেরকেও। মাদুরদহ হুসেনপুর রোডের বাড়িটিতে কার্যত এক ঘরে দেবাঞ্জনের পরিবার। রবিবার রাতেই তার বাড়িতে বিস্তারিত তল্লাশি চালান লালবাজারের গোয়েন্দারা। তবে সংবাদমাধ্যমের কাছে পরিবারের কাতর আবেদন, তাদের নাম-পরিচয় যেন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত না হয়।

দেবাঞ্জনের বাবা এবং দিদি তাদের নিজস্ব মেধা এবং শিক্ষায় কর্মস্থলে সু-প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ছোটবেলা থেকে সেই মেধা অর্জন করতে পারেনি দেবাঞ্জন। সেই কারণেই সে এরকম জালিয়াতির পথ বেছে নিয়েছিল এমনটাই মনে করছে পুলিশ। নিজের দাদার এহেন কীর্তিতে বেজায় অস্বস্তিতে হোসেনপুর মাদুরদহের ২১৮ নম্বর বাড়ির মেয়ে তথা দেবাঞ্জনের দিদি।

২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। এখনো পর্যন্ত স্থায়ী না হওয়ার জন্য বেতন পরিকাঠামোও সেভাবে ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই গত এক সপ্তাহ ধরে গোটা পরিবারের সাথে বেজায় অস্বস্তি তাড়া করে বেড়াচ্ছে দেবাঞ্জনের বোনকেও। দাদাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা তো আছেই, তার ওপরে দোসর হয়েছে নতুন আতঙ্ক, ” দাদার জন্য আমার চাকরিটাই না চলে যায়! এখনো অফিসের সবাই জানে না, যারা জানে তাদের মধ্যে কয়েকজন ফোন করে ঘুরপথে জানতে চাইছে। সব জেনেও না জানার ভান করে খুঁচিয়ে ঘা করার চেষ্টা করছে, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়ার জন্য। খুব ভয় লাগছে, অফিসের সবার মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে চাকরিটা আদৌ থাকবে কিনা।”  তার কথায়, “আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, অনেক পড়াশোনা করে এই চাকরিটা পেয়েছি, এখনো পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি, ফলে সেভাবে টাকা পয়সাও পাই না। আমাকে রোজ সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তাই ভয়ে ভয়ে আছি, এসবের জন্য এই চাকরিটাও না চলে যায়! রোজ সকালে উঠে প্রার্থনা করি যেন আজকে চাকরিটা থাকে ভগবান।”  

প্রতিবেশীরা ইতিমধ্যেই বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করেছেন, বাদ যাচ্ছেন না তার সহকর্মীরাও। দাদার ভুয়ো চাকরি এবং টিকাকরণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না, দাবি করে তরুণী বলেন, “নিজের পড়াশোনা নিয়েই ছোটবেলা থেকে ব্যস্ত থেকেছি, সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করে পরবর্তীকালে ভূগোলে অনার্স নিয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পাশ করেছি ২০১৮ সালে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টাতেই ব্যস্ত ছিলাম, দাদার চাকরির বিষয়ে সেভাবে মাথা ঘামাইনি।” তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালে হায়দরাবাদে  গিয়ে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো থেকে স্বল্প দিনের জন্য একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছি। তারপরেই চাকরিতে ঢুকি। এই ভাবেই নিজের জীবনটা পড়াশোনা ও কাজের মধ্যে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি, আমি কোনওদিন দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি, আজ এই দিনটা দেখতে হবে, আর দাদার জন্য আমাকে এসব সইতে  হবে।” এখন কার্যত দেবাঞ্জনের কীর্তির দুঃস্বপ্ন থেকে বেরোতে চাইছেন তার পরিবারের লোকজনও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *