AJUP, Midnapur, “তৃণমূল বিধায়কের দেওয়া দুর্নীতির টাকা মুসলিম সমাজ তা গ্রহণ করবে না,” বললেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির জেলা সভাপতি আব্রার হোসেন

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ মার্চ: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি তথা খড়্গপুর গ্ৰামীন বিধানসভার প্রার্থী আব্রার হোসেন গত ১৫ দিন আগে উদ্বোধন হওয়া দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক বৈঠক করে তৃণমূলকে তীব্রভাবে আক্রমন করেন।

তিনি বলেন, খড়্গপুর গ্রামীণের বর্তমান বিধায়ক দীনেন রায় প্রতিটা মসজিদে গিয়ে আড়াই লাখ টাকা করে দান করছে। দীনেরবাবু নিজেকে খুব বড় নেতা মনে করেন। মুসলিম বস্তি গুলিতে, মসজিদে দান করার জন্য তিনি আড়াই লক্ষ টাকা করে পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে তা নিচ্ছেনও। কিন্তু তৃণমূল বিধায়কের দেওয়া এই টাকা গরিবের রক্ত চোষা টাকা, দুর্নীতির টাকা, মুসলিম সমাজ তা গ্রহণ করবে না। তিনি মসজিদ কমিটিগুলিকে টাকা দেওয়ার বহু চেষ্টা করছেন যাতে মসজিদ কমিটিগুলিকে হাতে রাখা যায় এবং ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে যাতে তাদের ব্যবহার করা যায়। এতদিন মুসলিমদের বোঝানো হয়েছে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের শেষ করে দেবে। সবাইকে পাকিস্থানে পাঠিয়ে দেবে। এনআরসির নামে মুসলিমদের শেষ করে দেবে বিজেপি সরকার। মুসলিমদের এভাবেই ভুল বুঝিয়ে এসেছে তৃণমূল। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল শাসনে যেভাবে মুসলিমেরা বঞ্চিত হয়েছে যেভাবে রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাস তৈরি করা হয়েছে এবং সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে, সেজন্য আজ মুসলিম, আদিবাসী ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ এই দুর্নীতিবাজ সরকার থেকে মুখ ফেরাচ্ছে। আর এই জন্যই তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায় মসজিদে মসজিদে ছুটছেন, যাতে ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখা যায়। কিন্তু আমরা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে বলছি, এখানে কোনো কর্মসংস্থান হয়নি। অথচ খড়্গপুর টাউন ও খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের মাঝখানে দুশোর বেশি কল- কারখানা রয়েছে। সেখানে বাইরের লোক কাজ করছে। দীনেনদের মতো লোকরা স্থানীয়দের বঞ্চিত করে পিছিয়ে রেখেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব। এলাকার মানুষের অধিকার আমরা ফিরিয়ে দেব।

তিনি বলেন, এস আই আর ঘোষণা হওয়ার পর ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুকীর্তি সব বেরিয়ে এসেছে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে ৮০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছেন এই মুখ্যমন্ত্রী। আমরা এই ৮০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের ভোটাধিকার চাইবো। নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করব প্রকৃত ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুন্ন করা চলবে না।
তিনি বলেন, রাজ্যসভার সদস্য কেন তেলেঙ্গানা থেকে মনোনীত করা হবে? রাজীব কুমারকেই বা কেন করা হয়েছে? আমাদের রাজ্যে কি একটাও মুসলিম লোক খুঁজে পাওয়া গেল না? আসলে রাজীব কুমারদের রাজ্যসভায় পাঠানোর পেছনে পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কুকীর্তি ফাঁস না হয়ে যায়। সেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধেও আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে।

বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তৃণমূল সরকার ও তার প্রশাসন সাধারণ মানুষকে তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে দেয়নি। নিজেদের মত করে ভোট করিয়েছে। তাই বাহিনী এলেও বাহিনীকে তাদের নিজেদের মতো করে কাজ করতে হবে। অন্যান্য রাজ্যের মত শান্তিপূর্ণ ভোট হোক আমাদের এই রাজ্যে। বাহিনী নিরপেক্ষ হোক এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য এ রাজ্যে আরও বেশি বাহিনীর প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *