‘পুলিশের নেতৃত্বেই খুন’ ময়নায় দাবি জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানের

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৪ মে: “পুলিশের নেতৃত্বেই মার্ডার হয়েছে”, ময়নার বিজেপি নেতা বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইঞার খুনের ঘটনার তদন্তে এসে এমনটাই মন্তব্য করলেন জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর এমনটাই মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, “এখানে তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়েছে। পুলিশ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারছে না। এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির কাছে যাব”। সেই সঙ্গে “ডিজি ও এসপিকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাব”।

ময়নার গোড়ামহল গ্রামের বাসিন্দা তপশীলি নমঃসূদ্র জাতি গোষ্ঠীর বিজয়কৃষ্ণকে নৃশংস ভাবে খুন করার ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ময়নার বাকচায় হাজির হন অরুণ হালদার। তবে তাঁর আসার খবরেও পুলিশের কোনও আধিকারিক না আসায় নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সেই সঙ্গে সেদিনের হত্যাকান্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তদন্তে চূড়ান্ত অসঙ্গতি রয়েছে দাবি জানিয়ে এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিন অরুণ হালদার ময়নায় এলেও তাঁর সঙ্গে পুলিশ সুপার বা জেলা শাসক সাক্ষাৎ করেননি, পরিবর্তে ময়না থানার এক পুলিশ আধিকারিক আসেন। তাঁর দাবি, “এই রাজ্যে ২২% তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। গোটা দেশে বসবাসকারী এমন তপশিলি মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গঠন করা হয়েছে জাতীয় এসসি কমিশন। অথচ সেই কমিশনের গুরুত্বকে লঘু করার চেষ্টা করছে এই রাজ্যের পুলিশ”। পুলিশের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে অরুণ চলে যান সেই পুকুর পাড়ে, যেখান থেকে বিজয়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের কোনও চেষ্টাই পুলিশ করেননি বলে অভিযোগে সরব হন অরুণবাবু।

জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানের দাবি, “গোটা ঘটনার তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে একাধিক প্রমাণ পড়ে থাকলেও তা সংরক্ষণের কোনও চেষ্টাই পুলিশ করেনি। আমি সমস্ত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরব”। তাঁর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অনেক অসঙ্গতি দেখতে পাচ্ছি। দেহ উদ্ধারের পর অনেক কাজ করা হয়নি। আমি আসছি দেখে কোনও সহযোগিতা করবে না। আমার দেখে মনে হচ্ছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হচ্ছে। একটা মৃত দেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে থাকা অনেক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়নি। এসপিকে দিল্লি ডেকে পাঠাব। প্রয়োজনে ডিজি’কেও দিল্লিতে তলব করতে পারি”।

অরুণ হালদার জানান, “এ যেই সেই সেই কমিশন নয়, এই কমিশন ভারতীয় তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষের কমিশন। দেহ উদ্ধারে মানা হয়নি নিয়ম। প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তের দাবি করব”।

এদিন চরম ক্ষুব্ধ অরুণবাবুর দাবি, “ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এখানে একের পর এক খুন হচ্ছে। গোটা শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখানকার পুলিশ, জেলা শাসক, কমিশনকে ফেস করতে ভয় পাচ্ছে। আইনের শাসন বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে আমরা ঘাঁটি গেড়ে থাকব”। কমিশনের প্রাথমিক অনুমান, “পুলিশের নেতৃত্বেই খুন হয়েছে। তাই ডিজি, এসপিকে দিল্লি ডেকে পাঠাব”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *