সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ মার্চ: স্বামীর মৃত্যুর জন্য আইসি সহ বেশ কিছু তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন ঝালদায় গুলি বিদ্ধ হয়ে নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু। আজ ঝালদায় এই কথা বার বার বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরিবার পরিজনরা পাশে থাকলেও নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি ঝালদা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার পূর্ণিমা। তিনি বলেন, “এই ঘটনার জন্য স্থানীয় আইসি দায়ী। থানা থেকে স্বামীকে দল ছাড়ার জন্য বার বার হুমকি দেওয়া হয়।” এছাড়া এই ঘটনায় বেশ কিছু তৃণমূল নেতা যুক্ত বলে তিনি অভিযোগ করেন। যদিও কাল রাতে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করে পুলিশ। নিহতের নিজের ভাইপো দীপক কান্দুকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ভাইপো দীপক কান্দুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় কাকা তপনের। জয়ী হন তপন। এছাড়া সম্পর্কিত দাদা নরেন কান্দুকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। কাল রাতের পর ফের আজ জেলা পুলিশ সুপার এস সিলভামুরগণ ঝালদা থানায় থেকে তদন্ত পরিচালনা করেন। পুলিশ গুরুত্ব দিয়েই রহস্যজনক এই খুনের ঘটনার তদন্ত করছে।

এদিকে তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া তাঁর দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভোট পর্ব নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে। কোনও ঝামেলা হয়নি। বোর্ড গঠন না হওয়ায় রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস খুনের রাজনীতি করে না। সমর্থন করে না। পুলিশ তদন্ত করছে। সত্যতা উঠে আসবেই। তবে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।”
রবিবার বিকেলে রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। মাথা, হাতে, পেটে গুলি লাগে তাঁর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তপন কান্দুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচির এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঝালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী তপন কান্দু। রবিবার দুপুরে পুরুলিয়া শহরে জেলা কার্যালয়ে সস্ত্রীক দলীয় কার্যালয়ে যান তিনি। তাঁর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস দলের কাউন্সিলর। বিকেলে বাঘমুন্ডির রাস্তায় ঝালদা শহরের কাছে গোকুলনগর এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা তিন জন দুষ্কৃতী মোটর সাইকেলে এসে খুব কাছ থেকে তপন বাবুকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে।
এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে দাবি করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো। তিনি বলেন, “জঘন্য রাজনীতির শিকার হলেন তপন। তাঁর প্রাণ পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হল। তিনি ঝালদা পুরসভার কংগ্রেস বোর্ডের চেয়ারম্যান পদের দাবিদার ছিলেন।”
সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তিনি বলেন, “এর জন্য রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে দায় নিতে হবে। এই ঘটনা পুরুলিয়ায় ছিল না। শাসক দলের মদত রয়েছে। এর সঠিক তদন্ত করা দরকার।”

আজ ঝালদায় পৌছান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দলের কাউন্সিলরকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বোর্ড গড়ার প্রধান অন্তরায় হয়ে গিয়েছিলেন তপন। রাজ্যে সন্ত্রাস, ভোট লুঠের মধ্যেও তাঁর স্ত্রী ও তপন জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে। তাহলে কী বিশাল জনসমর্থন রয়েছে ওই পরিবারের। এই কারণেই তপনকে হত্যা করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ শুধু নয়, সঠিক তদন্ত দাবি করছি।”

এদিকে দেহ দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ রাঁচি থেকে ঝালদায় আনা হয়। তার পরই কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা রাঁচি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পায়। পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের বচসা হয়। পরে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। দলীয় কাউন্সিলরের হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার পুরুলিয়া জেলাজুড়ে ১২ ঘন্টার বনধ ডাকল কংগ্রেস। বনধে মাধ্যমিক পরীক্ষা ও জরুরি পরিষেবা বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। আজ পুরুলিয়া শহরে বনধের সমর্থনে মিছিল করে কংগ্রেস। বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে জেলা পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি দেয় কংগ্রেস।

