আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ৩ আগস্ট: হাত, পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের ঝুলন্ত দেই উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের কাঁকড়তলা থানা এলাকার হজরতপুর গ্রামে। যুবকের বাবার দাবি, ছেলেকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান পরকিয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ মৃত যুবকের প্রেমিকা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ সুত্রধর (৩৭)। বাড়ি কাঁকড়তলা থানার হজরতপুর গ্রামে। তিনি হজরতপুর গ্রামের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে শ্মশান সংলগ্ন বিশ্বরূপ মন্দিরের কাছে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গলায় গামছার ফাঁস দেওয়া তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চোখ সাদা রুমাল দিয়ে বাঁধা ছিল। হাতে প্ল্যাস্টিকের দড়ি ও পা পরনের জামা দিয়ে বাঁধা ছিল। পা সম্পূর্ণ মাটিতে ছিল। কেউ হাত, পা ও চোখ বেঁধে আত্মহত্যা করবে না বলে গ্রামবাসীদের দাবি। ফলে খুনের অভিযোগ খাঁড়া করেছেন গ্রামবাসী থেকে পরিবার।
মৃত ইন্দ্রজিতের বাবা রঘুনাথ সুত্রধর বলেন, “ছেলেকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুনিদের কঠোর শাস্তি চাই। ছেলেকে দরজার শিকলের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ভাবে কোনও মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে না”।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দ্রজিতের সঙ্গে প্রতিবেশী এক গৃহবধূর পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ২৮ জুলাই ওই গৃহবধূকে নিয়ে তারাপীঠে পালিয়ে যায় ইন্দ্রজিৎ। সোমবার গৃহবধূকে দুবরাজপুরে ছেড়ে দেয় সে। এরপর ওই গৃহবধূ বাড়ি ফিরে স্বামীকে সব কথা বলে। ওই দিনই গৃহবধূর স্বামী কাঁকড়তলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইন্দ্রজিতের বিরুদ্ধে। স্বামীর দাবি, তার স্ত্রীকে ইন্দ্রজিৎ ফুসলিয়ে তারাপিঠে নিয়ে যায়। অভিযোগের পরের দিন সকালেই ইন্দ্রজিতের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় ওই পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
এলাকার বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, “যে কোনও মৃত্যুই বেদনাদায়ক। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করব উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক”।
জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে পরবর্তী তদন্ত শুরু হবে।

