বীরভূমে মুনিবের মান বাঁচাল বলদ, জরিমানার টাকা খরচ হবে করোনা রোগীদের জন্য

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৫ মে: হালের বলদ চুরির অপবাদ থেকে বাঁচিয়ে দিল মুনিবকে। মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অপরাধে জরিমানা করা হল অপবাদকারীকে। জরিমানার টাকায় করোনা রোগীদের জন্য খরচ করা হবে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের কাঁকড়তলা থানা এলাকার কদমডাঙ্গা গ্রামে।

জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষিজীবী আজিজুল শেখ দিন কয়েক আগে ঝাড়খণ্ডের কাঠিঝুড়ি থেকে এক আদিবাসীর কাছ থেকে একটি হালের বলদ কেনেন। প্রায় একই সময়ে জেলার সদাইপুর থানার সগর গ্রামের ফরিদ চৌধুরীর একটি হালের বলদ চুরি যায়। কদমডাঙ্গা গ্রামে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। সেই সূত্রে দিন কয়েক আগে জামাইয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে যান। সেখানেই আজিজুলের কেনা বলদ তার বলে দাবি করেন ফরিদ। এনিয়ে বাদানুবাদ শুরু হয়। গোটা গ্রামে রটে যায় আজিজুল চোরাই গরু কিনেছে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি হওয়ায় লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায় আজিজুলের।

বিষয়টি তিনি গ্রামের পাঁচজনকে জানান। জানানো হয় গ্রামের আস্থা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে। এরপরেই সোসাইটির উদ্যোগে বসে সালিশি সভা। সেই সভায় সোসাইটির সদস্য শেখ পলাশ নামে এক গ্রামবাসী প্রস্তাব দেয় বলদটিকে দুটি গ্রাম ঢোকার মুখে ছেড়ে দেওয়া হবে। যার বাড়িতে ঢুকবে, বলদ তার। তার আগে সিদ্ধান্ত হয় দুজনকেই ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানার টাকা জমা দিতে হবে। বলদ যার বাড়িতে ঢুকবে তার জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বাকি টাকায় করোনা রোগীদের জন্য খরচ করা হবে। ওই প্রস্তাবে বলদের দুই দাবিদার রাজি হয়ে যান। প্রস্তাবে সম্মতি দেন গ্রামবাসীরাও। সেই মতো একটি ছোট্ট লরিতে বলদটিকে চাপিয়ে প্রথমে ছেড়ে দেওয়া হয় ফরিদ চৌধুরীর সগর গ্রামে। কিন্তু গরু কারও বাড়িতে না ঢুকে দিকভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকে। তবে কদমডাঙ্গা গ্রাম ঢোকার মুখে বলদ ছাড়তেই আজিজুলের বাড়িতে ঢুকে যায়।

শেখ আজিজুল বলেন, “ওই বলদ চাষের জন্য আমি ঝাড়খণ্ড থেকে ২৩ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু গ্রামের জনৈক বাসিন্দা তার শ্বশুরকে ডেকে নিয়ে এসে বলে বলদ তাদের। আমি প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুতে পড়েছিলাম। কারণ আমার গায়ে চোরের তকমা সেঁটে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমি গ্রামবাসী এবং বিক্রেতাকে ডেকে পাঠাই। গ্রামবাসীরা যে সিদ্ধান্ত দেয় সেটাই আমি মেনে নিই। শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হল আমার কেনা বলদ চোরাই নয়”।

সোসাইটির সদস্য শেখ পলাশ বলেন, “বলদ নিয়ে বিবাদ মেটাতে আমরা ওই অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমাদের সিদ্ধান্তে কাজ হয়ে যায়। আমরা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে সোসাইটিতে রেখে দিয়েছি। গ্রামের কারও করোনা হলে ওই টাকা ব্যয় করা হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *