বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় জামিন পেলেন মুকুল রায় ও জগন্নাথ সরকার

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৪ জুন:
বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় জামিন পেলেন মুকুল রায় ও জগন্নাথ সরকার। নদিয়ার হাঁসখালি থানার ফুলবাড়ি এলাকায় বাড়ির কাছেই ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে খুন হয়েছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের তৎকালীন বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। সরস্বতী পুজোর আগের দিন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী এবং চাকদহের বিধায়ক রত্না ঘোষ কর, তৃণমূল জেলা সভাপতিকে নিয়ে একটি পুজোর উদ্বোধন করে ফেরার সময় দূর থেকে দুষ্কৃতিদের ছোড়া গুলিতে খুন হন বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। পরদিন ১০ ফেব্রুয়ারি জনৈক মিলন সাহা সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনের অভিযোগ দায়ের করেন হাঁসখালি থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুন্ডারী সহ ৫ জনকে। রানাঘাট মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজের এজলাসে মামলা চলতে থাকে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এফআইআরে সন্দেহভাজন হিসাবে বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার ও মুকুল রায়ের নাম ছিল। যদিও সিআইডি তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। অবশ্য প্রমাণের অভাবে দুজনকে মামলা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল সিআইডি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ১৪ জুন দু’জনকে ওই মামলা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। তবে এফআইআরে নাম থাকলেও চার্জশিটে মুকুল রায় ও জগন্নাথ সরকারের নাম ছিল না। যদিও তদন্ত চলাকালীন তাদের নাম বাদ দেওয়া আইনসঙ্গত হয়নি বলে দাবি করে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন সত্যজিৎ খুনের মামলার অভিযোগকারী মিলন সাহা। আদালত সেই আবেদন যুক্তিসঙ্গত বলে জানায়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত জারি থাকে। এবছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চার দফায় জগন্নাথ সরকারকে ডেকে ভবানি ভবনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুন্ডারীর সঙ্গে সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের পর টেলিফোনে যোগাযোগ রাখার কারণে জগন্নাথ সরকারের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।

কিছুদিন আগে রানাঘাট মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয়ী চৌধুরীর এজলাসে সিআইডির পক্ষ থেকে সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সেই চার্জশিটে সত্যজিৎ বিশ্বাসকে খুনের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১২০ বি ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে জগন্নাথ সরকারকে। ফলে এখনও পর্যন্ত সত্যজিৎ খুনের ঘটনায় মোট ৪ জনের নামে চার্জশিট দিল সিআইডি। তার মধ্যে মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুন্ডারী, সুজিত মন্ডল ও নির্মল ঘোষ রয়েছেন জেল হেফাজতে। জগন্নাথ সরকারের আইনজীবী রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল রায়ের আইনজীবী সুমন রায়। সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় সিআইডির তদন্তকারী অফিসার কৌশিক বসাক। সেই সময় রানাঘাট মহকুমা আদালতে এসে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেন।

অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সরকারি আইনজীবী প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এর আগেই সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলার অরিজিনাল চার্জশিট সিআইডির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম রাখা হয়েছে জগন্নাথ সরকারের, মুকুল রায়কে সন্দেহভাজন হিসাবে’।
এরপর মুকুল রায়ের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন। একই অভিযোগে অভিযুক্ত একজন তৃণমূলে অপরজন বিজেপিতে? আজ সোমবার ছিল কোর্টে হাজিরার নির্দেশ। আর তাকে ঘিরেই গোটা কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার সাধারণ মানুষ ছিল অপেক্ষায়। তাদের প্রিয় বিধায়ক খুনের রুপরেখা পরিবর্তিত হবে নাতো? রাজনৈতিক জল্পনা চলছিল চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার হাট সর্বত্র।

এ ব্যাপারে, সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রুপালি বিশ্বাসকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর সাথে মুকুল রায়ের যোগসাদৃশ প্রমাণ হলে, শুধু আমি কেন দলও প্রশ্রয় দেবে না এ বিশ্বাস আমার আছে।

জগন্নাথ সরকার জানান, তৃণমূলের দ্বারা সবকিছুই সম্ভব, তবে আইনের উপর পূর্ণ আস্থা আমার আছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার নাম যে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আগামীতে তা প্রমাণ হবে।

জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু জানান, আইন চলবে আইনের পথে, দলের সুপ্রিমো যেখানে ভালো বুঝে তাকে দলে নিয়েছেন সেটা পরোক্ষভাবে প্রত্যেক তৃণমূল কর্মীদের সিদ্ধান্ত। সোমবার রানাঘাট মহকুমা আদালতে কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক খুনের মামলায় লকডাউনের জন্য হাজিরা হল না। শুধু মাত্র ভার্চুয়ালি এই মামলায় কোর্টে বেল হল আসামীদের।

সরকার পক্ষের আইনজীবী বলেন লকডাউনের জন্য মামলার গতি প্রকৃতি মন্হর হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *