রাজেন রায়, কলকাতা, ১৪ জুন: মুকুল রায় বিজেপিতে এসে একাধিক সম্মান পেলেও তিনি কোনও দিনই মানসিকভাবে বিজেপিকে গ্রহণ করতে পারেননি। বরং নির্বাচনের মধ্যেও ভারসাম্যের রাজনীতি খেলে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। বিজেপি সম্বন্ধ্যে ভুল রাজনৈতিক তথ্য নিয়ে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেকের সঙ্গে। আর ভোট শেষে নিজের পুরনো দলে যোগ দিয়েছেন। এবার মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।
বাবুল সুপ্রিয় একটি সংবাদ মাধ্যমের খবর তুলে ধরেন। যেখানে লাল রং দিয়ে আন্ডার লাইন করা রয়েছে। সেই সংবাদে লেখা রয়েছে, “…. সূত্রের খবর, পাশাপাশি বিজেপি ও শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে রাজ্যে নেতাদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে মেরুকরণ বাড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে। কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে তাদের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর কৌশল নেয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন মুকুল। তিনি অভিষেকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বিজেপির এই সাম্প্রদায়িক পরিকল্পনার কথা খুলে বলেন।

এই তথ্য তুলে ধরে বাবুল সুপ্রিয় পোস্টটিতে লিখেছেন, “বিজেপির কোনও সর্বভারতীয় নেতা বাংলার বিজেপি নেতাদের বলেছিলেন মেরুকরণ বাড়িয়ে অস্থিরতা বাড়াতে? চারিদিকে যখন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সন্ত্রাস ছড়িয়ে চুড়ান্ত নোংরামি করছে টিএমসি তখন মুকুলদা বিজেপিতে থেকে এই ধরনের মিথ্যা কথা প্রচার করেছিলেন তোলাবাজ ভাইপোর সঙ্গে গোপন বৈঠক করে? এটা মানতে পারছি না। আজ যখন বিজেপির ছেলেদের উপর চারিদিকে অত্যাচার হচ্ছে তখন সাদা পাঞ্জাবিতে রক্তের দাগ টিএমসির সঙ্গে কোলাকুলি করছেন মুকুলদা। ওঁর মতো সিনিয়র নেতাকে এটা মানায়?”
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=4208383215871121&id=195086033867546
একইসঙ্গে মুকুল রায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর মন্তব্য, ”না হয় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেন। বিজেপির বৈঠকে আসছিলেন না। আরও কয়েকদিন আসতেন না। তাতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হত? কালই তো বাংলায় কোনও নির্বাচন নেই। দল বদল করেছেন কোনও অসুবিধা নেই। রাজনীতিতে এটা রোজকার ব্যাপার এটা মুকুলদার চেয়ে ভালো আর কেইবা জানেন? বিজেপির বিরুদ্ধে বলেছেন বা বলবেন সেটাও স্বাভাবিক। ওঁর মত একজন সিনিয়র এমন সম্পূর্ণ অসত্য কথা কেন বলছেন? যা সত্যি নয় তা বলে সাম্প্রদায়িক আগুন কেন জ্বালাচ্ছেন।”
তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, “আমার ওনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। এখনও সামনাসামনি দেখা হলে কখনোই অসম্মানজনক কিছু কথা বলব না। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক তো আর দলের ভাল-মন্দের উপর হতে পারে না। ভোট পরবর্তীকালে কতগুলি রাজনৈতিক খুন মমতা দিদির অনুপ্রেরণায় হয়েছে এবং হয়ে চলেছে তা কি জানেন না উনি? এই জীবনেই কিন্তু মানুষ হিসেবে সব উত্তর দিতে হবে, হিসাব মিলিয়ে দিয়ে যেতে হয় আমাদের।”

