আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৬ জুন: ফের ক্ষোভের মুখে সাংসদ শতাব্দী রায়। এবার বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের নাকড়াকোন্দা পঞ্চায়েতের গাংপুর ও সগড়ভাঙ্গা গ্রামে ক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। শুনতে হলো গ্রামের মানুষের অভাব অভিযোগ ও না পাওয়ার কথা।
পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে তারকা সাংসদকে গ্রামে গ্রামে নিয়ে গিয়ে ঝড় তুলতে চেষ্টা করছে তৃণমূল। ফলে তিনদিন ধরে জেলার বিভিন্ন গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। রবিবার সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের নগরী পঞ্চায়েতের বড়গ্রাম এলাকায় রাস্তাঘাট, পাকা বাড়ি, পানীয় জল, একশো দিনের কাজের টাকার দাবিতে শতাব্দীকে ঘিরে ক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। সোমবার খয়রাশোল ব্লকের নাকড়াকোন্দা পঞ্চায়েত এলাকায় একই ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় শতাব্দীকে। ওই পঞ্চায়েতের সগড়ভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ শিল্পা ধাওরে পানীয় জলের অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। বলেন, “খনি এলাকা হলেও আমাদের পানীয় জলের সমস্যা। হাসপাতাল নেই। স্কুল-কলেজ কোনে কিছুরই সুবিধা নেই। এগুলো দেখুন”।

গাংপুর গ্রামের বধূ পাখু বাউরি বলেন, “গ্রামে গ্রামে এইভাবে ছুটে বেরিয়ে লাভ নেই। আমরা অসুবিধায় রয়েছি এগুলোর দিকে নজর দেন। প্রথমত আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছি না। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা থেকে আমাদের অনেকেই বঞ্চিত। এলাকায় খোলা মুখ কয়লাখনি করে কয়লা তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ পাচ্ছে না”।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পরে মেজাজ হারান সাংসদ শতাব্দী রায়। সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “মানুষ পাচ্ছে বলেই পাচ্ছি না কথাটা আসছে। আগে কিছুই পেত না। ওই গ্রামে সবাই লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পেয়েছেন। মাত্র দুজন বঞ্চিতের তালিকায়। তাদের সার্টিফিকেট ঝাড়খন্ড রাজ্যের। সেই কারণেই হয়ে উঠছে না। ওরা বর্তমানে গাংপুরের বাসিন্দা। আমি দেখছি কিভাবে কী করা যায়”। পানীয় জলের প্রশ্নে তিনি বলেন, “পাইপলাইন হয়েছে। জল অবশ্যই পাবেন”।
জেলার মধ্যে খয়রাশোল ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সব থেকে বেশি। দল বিরোধী কাজের জন্য এই ব্লক থেকেই ২৯ জনকে বহিস্কার করেছে দল। তাতেও ক্ষোভ থামছে না। দিন কয়েকের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করবেন খয়রাশোলে। ৩ জুলাই একই ব্লকে সভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে এলাকার মানুষের মনোভাব বুঝতে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়ছেন শতাব্দী।

