জে মাহাতো, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৩১ আগস্ট: দূরপাল্লার তিনটি ট্রেনের পুনরায় ঝাড়গ্রাম স্টেশনে স্টপেজের এবং হাওড়া- টাটা স্টিল এক্সপ্রেস সহ লোকাল ট্রেনের পরিষেবা চালুর দাবিতে গত ২০ আগস্ট থেকে স্টেশন চত্বরে রিলে অনশন শুরু করেছে ঝাড়গ্রাম শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে তৈরি ‘আমরা ঝাড়গ্রামবাসী’। দল-মত নির্বিশেষে শহরের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই দাবিতে এখনো পর্যন্ত রিলে অনশন চালিয়ে গেলেও রেল কর্তৃপক্ষ তেমন কোনও সাড়া না দেওয়ায় তারা ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন।
জানাগেছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বাই ও পুরীগামী তিনটি এক্সপ্রেস ট্রেন ঝাড়গ্রাম স্টেশনে স্টপেজ দেওয়া শুরু করে। কিছুদিন হল সেই ট্রেনগুলি স্টপেজ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপরেই ট্রেনগুলির স্টপেজ ফেরানোর দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রী থাকাকালীন পুরুলিয়া- ঝাড়গ্রাম রেলপথ তৈরীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা সেই রেল পথেরও দাবি তুলেছেন।
এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে এসেছে ঝাড়গ্রাম শহরের ওষুধ ব্যবসায়ী সংগঠন, জুবিলি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি এবং কুড়মি সমন্বয় মঞ্চ সহ আরো কয়েকটি সংগঠন। আন্দোলনকারী ‘আমরা ঝাড়গ্রামবাসী’র সদস্য প্রতীক মৈত্র জানিয়েছেন, রেলের পক্ষ থেকে সাড়া না পেলে আমরণ অনশন শুরু হবে এবং ঝাড়গ্রামে দূরপাল্লার ট্রেনগুলি আটকে বিক্ষোভ দেখানো হবে।
এই আন্দোলন প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রামের বিজেপি সাংসদ কুনার হেমরম বলেন, এলাকার সাংসদ হিসেবে রেলমন্ত্রীকে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন খড়্গপুরের বিভাগীয় রেল ম্যানাজার। ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পুরী, মুম্বাই এবং দিল্লিগামী যে তিনটি ট্রেনের পরীক্ষামূলক ভাবে স্টপেজ দেওয়া হয়েছিল ১৬ আগস্ট থেকে সেগুলির স্টপেজ তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তী কালে আর কোনও নির্দেশিকা হাতে আসেনি বলে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিরজ কুমার জানিয়েছেন। আজ সোমবার রেলের একটি প্রতিনিধিদল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে আসেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পত্র প্রতিনিধি দলের হাতে তুলে দিয়ে দাবিগুলি কার্যকরী করার আবেদন জানান।

