সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৬ এপ্রিল: বেশিরভাগ হাতি এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে হাতি উপদ্রুত বড়জোড়া, বেলিয়াতোড়, সোনামুখি ও পাত্রসায়র ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের গ্ৰামগুলিতে। দলমা থেকে বুনোহাতির দল দীর্ঘ দু’মাস ধরে বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের এসব এলাকায় বিচরণ করছিল। বন কর্মীরা এই হাতিগুলির ৪২ টিকে বড়জোড়া থেকে বেলিয়াতোড়, সোনামুখী, পাত্রসায়ের হয়ে দ্বারকেশ্বর নদী পার করে জয়পুর জঙ্গলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। হাতির দলকে জয়পুর পাঠানোর সময় গ্রামবাসীরা সার্বিক সহযোগিতা করায় এবার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কম হয়েছে।এতে বনকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারা খুশি। তবে এই হাতি তাড়ানোর সময় সোনামুখীর মানিকপুর জঙ্গলে একটি ৬ মাসের শাবক মারা যায়। মঙ্গলবার সোনামুখী রেঞ্জের ডিপো এলাকায় সৎকারের সময় গ্রামবাসীরা দুঃখ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুর, পাঞ্চেত বন বিভাগের জয়পুর জঙ্গলে পাঠানো ৪২ টি হাতির ২২টিকে বাঁকাদহের বেলশুলিয়ার জঙ্গল হয়ে গড়বেতার দিকে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ফলে ওই বিশাল সংখ্যক হাতির বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। এতে এই এলাকায় বিচরণ করা হাতির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমেছে।
সোনামুখীর বন আধিকারিক দয়াল চক্রবর্তী জানান, এখনও উত্তর বনবিভাগের বিভিন্ন জঙ্গলে ১৮ থেকে ১৯ টি হাতি রয়েছে। বন সংলগ্ন গ্রামবাসীদের জীবন ও জীবিকা, বনও বন্যপ্রাণ সুরক্ষার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাষ্ট্রমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ও রাজ্যের প্রধান মুখ্যবন সংরক্ষককে চিঠি দিয়েছে পরিবেশবাদী সংস্থা মাই ডিয়ার ট্রিজ এন্ড ওয়াইল্ডস। দলমা থেকে জেলায় আসা হাতির সংখ্যা এবার অনেক বেড়েছে। এই হাতির পাল ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বা দলছুট হয়ে নতুন নতুন অসংখ্য বিচরণ ক্ষেত্র তৈরি করছে। জল ও খাবারের সন্ধানে জলাশয় ও লোকালয়ে হানার ঘটনা বাড়ছে এতে জীবন, ফসল ও সম্পত্তি হানির ঘটনা বাড়ছে, চাষিরা হাতির ভয়ে অকালে ফসল তুলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। হাতি খায় না এমন ফসল অলাভজনক হলেও চাষ করার দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে হাতি আসতে শুরু করে বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগে। প্রায় ৯ মার্চ পর্যন্ত হাতি আসার ঘটনা ঘটে। প্রায় দু’মাস এখানে হাতির দল থেকে যায়।
হাতি সমস্যা সমাধানের জন্য গঠিত সংগঠন সংগ্রামী গণ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে চলতি বছরে ৪ বার হাতি বনবিভাগে ঢুকেছে। এবার ৬ ফেব্রুয়ারি ১৩টি, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯টি, ১৭ ফেব্রুয়ারি ৩১টি ও ৯ মার্চ ৬৫ টি হাতি ঢোকে এই বনবিভাগে। শাবক নিয়ে তিনটি হাতি মারা যায় এবং দু’জন গ্রামবাসী মারা যান হাতির হামলায়। এছাড়াও প্রচুর ফসলের ক্ষতি ও ঘরবাড়ি তছনছ করেছে হাতির দল।

