৫০ হাজারের বেশি সেনাবাহিনী মোতায়েন ভারত-চিন সীমান্তে, আবার কি যুদ্ধের প্রস্তুতি?

আমাদের ভারত, ২৯ জুন : ভারত–চিন সীমান্তে অতিরিক্ত ৫০ হাজার সেনা পাঠালো ভারত। ১৯৬২ সালে ভারত–চিন সংঘর্ষের পর এই পরিমাণে সেনা ভারত–চিন সীমান্তে মোতায়েন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

গত কয়েক দিন আগে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, বছর খানেক ধরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা সমাবেশ বৃদ্ধি করছে চিন যা এই স্থিতাবস্থাকে বিঘ্ন করছে ও অশান্তির পরিবেশ তৈরী করছে। যদিও চিনের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়নকে তাদের রুটিন ব্যবস্থা বলে ভারতের দাবীকে অস্বীকার করা হয়েছে। বয়ান পাল্টা বয়ানের পরিস্থিতির মধ্যেই অতিরিক্ত ৫০ হাজার সেনা সীমান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া একটি বিশেষ দিক নির্দেশ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থাই নয় প্রয়োজনে পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

ওয়েস্টার্ন সেক্টরের ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভারত-চিন উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ বলে বিবেচনা করা হয়। গত বছর ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকার ভারত-চিন সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সৈনিক শহিদ হন। চিনেরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে চিন তাঁর সেনা হতাহতের খবরকে নাকচ করে দেয়। ভারতীয় জওয়ানদের মতে ৪০-৪২ চিনা সেনার মৃত্যু হয় ওই সময়।

গালওয়ান সংঘর্ষ এবং পূর্বের ১৯৬২ সালের ভয়ানক যুদ্ধ সমেত অন্যান্য সংঘাতে চিনের আচরণকে নজরে রেখে আগাম প্রস্তুতি নিতে ভারত এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সীমান্তে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ সেনা মোতায়ন করেছে ভারত যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। এছাড়াও কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে শক্তিশালী ফাইটার জেট, রাফাল, ট্যাঙ্ক এবং যুদ্ধাস্ত্রের সম্ভারও পাঠানো হচ্ছে সীমান্তে বলে খবর।

অন্যদিকে, সীমান্তের অপর দিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে চিনের ফৌজও। সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, হিমালয়ের কঠিন পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে যুদ্ধে টিকে থাকায় পারদর্শী করতে তিব্বতের যুবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চিন। তাছাড়াও নতুন রানওয়ে, বম্ব-প্রুফ বাঙ্কার, ঘর বানাচ্ছে চিন। সঙ্গে ফাইটার জেট, ট্যাঙ্ক, কামান, রকেট রেজিমেন্টও তৈরী হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থাপনা নতুন কোনও সংঘর্ষের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনুমান করে ভারতের এই পদক্ষেপ বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

যদিও শুক্রবার, ভারত এবং চিন উভয়ই পূর্ব লাদাখের সংঘর্ষ স্থল থেকে মোতায়েন সেনা সরিয়ে নেওয়া নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় সম্মতি জানায়। পাশাপাশি ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা’য় অবিরাম চলা সংঘর্ষে বিরাম টানা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা যায়।

কয়েক দশক ধরে নানা আলোচনা-সন্ধির পরও ভারত-চিনের সম্পর্ক বন্ধুপূর্ণ হওয়া সম্ভব হয়নি। আবারও ১২তম পর্যায়ে আলোচনার ঘোষণা হবার পরও দুই পক্ষের সামরিক প্রস্তুতিতে প্রশ্ন উঠছে ভারত চিন সীমান্তের শান্তি রক্ষায়। সীমান্তের উভয় দিকেই দ্রুতগতিতে যে পরিকাঠামো গড়ে উঠছে তাতে এই সংশয় আরও বাড়ছে। পরিকাঠামো গড়ে উঠতেই সংঘাত যে বাড়ে তার উদাহরণ দেখা গেছে অনেক আগে থেকেই। ডোকলাম, গালওয়ানেও তা লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যেই, এই একই কারনে ম্যাকমোহন লাইনে অবস্থিত সীমান্তবর্তী এলাকা অরুণাচল প্রদেশে সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *