আস্ত পুকুর চুরি! পুকুর না কেটেই টাকা লোপাট, কুমারগঞ্জে বিজেপি সমর্থিত নির্দল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে গণ অভিযোগ বাসিন্দাদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২২ জুন: একশো দিনের কাজে পুকুর খনন না করেই লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিজেপি সমর্থিত নির্দল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দল প্রধান জৈনুর বেওয়া ছাড়াও তার ছেলে হোচিমিন সরকারের বিরুদ্ধেও উঠেছে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ঘটনা জানিয়ে বিডিওকে গণ অভিযোগ পত্র দাখিল বাসিন্দাদের।

জানাগেছে, সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একশো দিনের কাজের মাধ্যমে সুবর্ণসহিদ সংসদের দুই বাসিন্দা রতিশ চন্দ্র রায় এবং কুসুম বালা রায়ের জমিতে দুইটি পুকুর খননের কথা রয়েছে। যেগুলি খননের কথা বলা হলেও দীর্ঘ দুবছরে তার কোনও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে ওই কাজের জন্য বরাদ্দ হওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমন দুর্নীতির খবর হাতে পেতেই বাসিন্দারা সকলে মিলে একত্রিত হয়ে গণ অভিযোগ জমা করেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যে কোনও প্রকার কাজ বন্ধেরও নির্দেশ দেয় বিডিওর প্রতিনিধি দল বলে দাবি বাসিন্দাদের। যে খবর পেতেই রাতারাতি ওই এলাকায় জেসিবি দিয়ে পুকুর খনন করতে শুরু করেন প্রধানের লোকজনেরা বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ জানানোয় এলাকার তৃণমূল কৃষক নেতাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

গুলজার হোসেন সরকার নামে ওই তৃণমূল নেতা বলেন, তিনি সত্যি কথা বলায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুকুর না কেটেই টাকা তুলে নিয়েছেন ওই পঞ্চায়েত প্রধান।

পুকুরের মালিক রতীশ চন্দ্র রায় ও কুসুমবালা রায়রা জানিয়েছেন, একশো দিনের কাজের মাধ্যমে তাদের পুকুর খনন করার কথা থকালেও, দীর্ঘ বছরে তার কোনও কাজই হয়নি। অথচ তারা জানতে পারেন, তাদের পুকুর কাটা দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে চাপে পড়ে রাতের অন্ধকারে পুকুর কাটা হচ্ছিল। যার প্রতিবাদ করেছিলেন বাসিন্দারা।

স্থানিয় বাসিন্দা হারনাল সরকার, জিল্লুর রহমান সরকাররা জানিয়েছেন, নেটে দেখেছেন ওই দুর্নীতির চিত্র। পুকুর না কেটেই টাকা তুলে নিয়েছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। আর তার পরেই বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনকে গণ অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জৈনুর বেওয়া ও তার ছেলেকে ফোনে না পাওয়া গেলেও পঞ্চায়েতের উপপ্রধান খাইরুল মোল্লা বলেন, একটি অভিযোগ পত্র তাদের কাছেও এসেছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *