“ভারতীয় মুসলিমদের পূর্ব পুরুষ হিন্দু, ইসলাম এদেশে এসেছিল আক্রামণকারীদের সাথে: মোহন ভাগবত

আমাদের ভারত, ৭ সেপ্টেম্বর:
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত দাবি করেছেন, এদেশের হিন্দু ও মুসলমানদের পূর্বপুরুষ এক। সকলের পূর্বপুরুষ হিন্দু। প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক হিন্দু। এদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছিল আক্রমণকারীদের সঙ্গে। এটাই ইতিহাস। তাই বিষয়টিকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা ভালো মনে করেছেন তিনি। মুম্বইয়ে মুসলিম বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হিন্দু মুসলমান সমাজের মধ্যে ঐক্য সাধনে কট্টরপন্থী মুসলিম বিচারধারার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষিত মুসলমান সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সংঘ প্রধান। আফগানিস্থানে তালিবান জঙ্গিদের ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষাপটে এই আহ্বানকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত দাবি করেছিলেন ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের ডিএনএ এক। সেই সময়ে ওই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার তিনি বললেন, হিন্দু ও মুসলিমদের উৎস এক। “রাষ্ট্র প্রধান রাষ্ট্র সর্বোপরি” শীর্ষক এই আলোচনায় তিনি ছাড়াও মুখ্য বক্তা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেরলের প্রাক্তন রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান, কাশ্মীর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা প্রাক্তন লেফটেনেন্ট জেনারেল সৈয়দ আটা হোসেনের মতো বিশিষ্টজনরা।

আফগানিস্থানে তালিবান জঙ্গিদের ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষাপটে আজকের বৈঠকটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রদায়িক ঐক্যের উপর জোর দিতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, “এদেশের হিন্দু ও মুসলমানদের পূর্বপুরুষ এক।” তিনি দাবি করেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক হিন্দু। তাঁর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “হিন্দু শব্দ মাতৃভূমি। আমাদের পূর্বপুরুষ ভারতের গৌরবময় সংস্কৃতির অঙ্গ। সেই দিক থেকে আমি সব ভারতবাসীকেই হিন্দু হিসেবে মনে করি। হিন্দুরা কারো সঙ্গে শত্রুতা করে না। সকলের ভালো চায়। এখানে ভিন্ন মতের অনাদর হয় না। ইসলাম আক্রমণকারীদের সঙ্গে এসেছিল। একে এভাবেই দেখা উচিত।”

আফগানিস্থানে তালিবানের ক্ষমতা দখলে ভারতে যাতে প্রভাব না ফেলে সেজন্য শিক্ষিত মুসলিম সমাজকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন ভাগবত। তিনি মুসলিম সমাজের কঠোর মনোভাবকে মোকাবিলা করতে শিক্ষিত মুসলিম সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেন।

আফগানিস্থানের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভারতে পাকিস্তান অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে বলে, আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কাশ্মীরের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সৈয়দ আটা হোসেন। তাঁর আশঙ্কা এদেশে কট্টর ভাবধারা ছড়ানোর চেষ্টা করবে পাকিস্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *