সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার মতো জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন আনার দাবি জানালেন মোহন ভাগবত

আমাদের ভারত, ৬ অক্টোবর: দেশে জনবিস্ফোরণ হতে পারে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করেই বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আবার একবার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের পক্ষে সওয়াল করেছেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। সংঘ দীর্ঘদিন ধরে এই আইন আনার দাবি জানিয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার কিছুদিন আগে জানিয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রণের ফল আপাতত ভালোর দিকে তাই সরকার এখন এই বিল আনার কথা ভাবছে না। কিন্তু বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ভাগবতের এই দাবিতে সরব হওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মহিলা পর্বতারোহী সন্তোষ যাদবকে নাগপুরের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করে নিয়ে গিয়েছিল সংঘ। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্যে নারী ক্ষমতায়নের উপর জোর দিয়েছেন সংঘ প্রধান। এই বারই প্রথম কোনো মহিলা ব্যক্তিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার, রাম মন্দির নির্মাণ দীর্ঘ সময়ের দাবি ছিল আরএসএসের। ঠিক একইভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন আনাও দীর্ঘদিনের দাবি তাদের। এবারের দশমীর দিন সেই দাবিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে যে সংঘ আন্দোলনের ময়দানে নামবে তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন সংঘ প্রধান। অর্থাৎ আগামী দিনে সংঘের প্রচারের অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন।

মোহন ভাগবত বলেন, “ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার ভারসাম্যের অসাম্য, ভৌগোলিক সীমানা পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার ভারসাম্য এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করা যায় না। তাছাড়া জনসংখ্যার জন্য রসদ প্রয়োজন, তা না থাকলেই সে জনসংখ্যা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই দেশের স্বার্থে একটি সামগ্রিক জনসংখ্যা নীতি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। যা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।” একইসঙ্গে তিনি লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

সংঘ প্রধানের এই বক্তব্য বিজেপি নেতৃত্বের সামনে কি নতুন লক্ষ্য স্থির করে দিল? প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটবে মোদী সরকার? শীতকালীন অধিবেশনেই কি আসতে চলেছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল?

কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে দেশে জাতীয় গর্ভধারণের যে হার সরকার নির্দিষ্ট করেছিল তার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব হবে। কিন্তু সংঘ স্পষ্ট যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, জন্মহার যা কমেছে সেটা প্রধানত হিন্দু সমাজের। মুসলিম-সমাজে জন্মহার কমা হিন্দুদের তুলনায় নগণ্য। সংঘ নেতারা মনে করছেন, পরিস্থিতি যদি এভাবে এগোতে থাকে তাহলে জনসংখ্যার বিস্ফোরণে আগামী দিনে দেশে সংখ্যাগুরু হয়ে যাবে মুসলিমরা। আর সেই কারণেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল আনা অত্যন্ত জরুরি।

বিজয় দশমীর অনুষ্ঠানে এই প্রথম কোনো মহিলা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নিজের বক্তব্যেও নারীশক্তির ক্ষমতায়নের উপর জোর দেন ভাগবত। নারী-পুরুষের সমানাধিকারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শক্তি শান্তির ভিত্তি। তাই মহিলাদের সমান অধিকার দিতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আরো বেশি করে দিতে হবে। সমাজের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য মহিলাদের ক্ষমতায়নে জোর দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *