মাল-বিপর্যয়ে প্রশাসনকে তোপ মহম্মদ সেলিমের

আমাদের ভারত, ৬ অক্টোবর: মাল-বিপর্যয়ে প্রশাসনকে এক হাত নিলেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই ঘটনার এক ও অন্যতম কারণ পৌরসভা ও প্রশাসনের উদ্যোগে নদীর ডান হাতি প্রবাহকে বালির বাঁধে আটকে নদীর বুকে বিসর্জনের মেলা প্রাঙ্গণ তৈরী করা।

মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, “মাল নদীর ব্রিজের নীচে মাঝে খানিকটা বালির চর রেখে দুপাড়ে বয়ে চলা নদীর স্রোতকে বালি ও পাথরের বাঁধ দিয়ে আটকে প্রতিমা বিসর্জনের গাড়ি ও মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছিল মাল পৌরসভা ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।”

“এযাবৎ দফায় দফায় বহুবার, এমনকি দিনকয়েক আগেও এই ডানহাতি স্রোত হঠাৎ করেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাল শহরের দিক থেকে এসে ঐখানে মাল নদীর ডানহাতি প্রবাহে বিসর্জন করে ফিরলে কখনোই এত ভয়াবহ ঘটনার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না।”

“জাতীয় সড়ক সেতুর নীচে মাল নদীর বুকে ঐটুকু জায়গায় কার্নিভালের জৌলুসে মানুষকে সামিল করার খামখেয়ালিতে শিশু, মহিলা, বৃদ্ধসহ এতগুলি প্রাণের মর্মান্তিক সলিলসমাধি ঘটলো। না জানি উদ্ধার না করা আরো ক’জন মানুষ ভেসে গেলো/নিখোঁজ রইলো!”

“মাঝরাত থেকে ভোর ও সকাল অবধি ঘটনাস্থল থেকে ৫/৬ কিমি পর্যন্ত দু’পাড়ের গ্রামবাসীকে নিয়ে প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকারে আমাদের কমরেডরা মাল ও নেওড়া নদীর মিলনস্থলের বিস্তীর্ণ নদীবক্ষ তল্লাশি চালালেও কোথাও সকাল আটটা পর্যন্ত প্রশাসনের, পুলিশের বা বিপর্যয় মোকাবিলার কোনও টিমের দেখা পায়নি। এমনকি তিস্তা সেতুর নীচেও কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

শুধু সমবেদনা নয়, শোকার্ত পরিবেশেও সব স্তরে স্বজনহারানো ও নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং দোষীদের কঠোর শাস্তিসহ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ও নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সংগঠিত করা জরুরী।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *