সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৬ আগস্ট: ৪৮দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বিদায় নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বিজেপি কর্মী মহম্মদ আলী (৩৮)। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত বিজেপি কর্মী মহম্মদ আলী উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের শিকার হয় মহম্মদ আলী ও তাঁর পরিবার। ২মে ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর দুষ্কৃতীদের দাপটে ঘর ছাড়তে হয় মহম্মদ আলীকে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পুলিশি পাহারায় গত ১২ জুন ঘরে ফেরে মহম্মদ আলী। ১৪ জুন রাতে স্থানীয় শাসক দলের নেতার নির্দেশে মায়ের সামনে ছেলে মহম্মদ আলীকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা।
পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি করায় তৃণমূলের লোকজন বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহম্মদ আলীকে বারাসতের জেলা হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ অব্যাহত থাকায় তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন তাকে বারাসাতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর ব্যায় বহুল সমস্যার সমাধান করতে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার সকালে সেখানেই মহম্মদ আলীর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবেই তাকে খুন করা হয়েছে। তৃণমূলের গুন্ডারাই এই ঘটনার জন্য দায়ী। যদিও এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামী এখনও জেলবন্দি। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপি নেতা শঙ্কর চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, ভোটের পর থেকে দুষ্কৃতীরা একের পর এক মায়ের কোল খালি করছে। এখনও আলীর মতো অনেক কর্মীরা ঘর ছাড়া। এরাজ্যের শাসক দল নৈরাজ্য চালাচ্ছে। এই সব বন্ধ হওয়া উচিৎ। মানুষ এর জবাব দেবে।

