আমাদের ভারত, ২২ এপ্রিল: আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায়
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি এলো কেরলের বিজেপি সদর দপ্তরে। একাধিক কর্মসূচি নিয়ে সোমবারে মোদীর কেরলে যাওয়ার কথা। তার আগেই জঙ্গি হামলার হুমকিতে চিন্তায় রাজ্য প্রশাসন ও গোয়েন্দারা।
ইতিমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে কোচিতে প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলা হবে। এই অবস্থায় নিরাপত্তা আরো বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। হুমকি চিঠিতে যার নাম আছে, তিনি এরনাকুলামের বাসিন্দা জোসেফ জন নাদুমুত্তাথিল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মোদীর কেরল সফর কালে তার উপর আত্মঘাতী বোমা হামলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোচিতে ওই হামলা হতে পারে। চিঠির বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। গেরুয়া শিবির চিঠি সম্পর্কে জানাতেই দ্রুত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চিঠি প্রেরককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও তিনি যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জোসেফের বক্তব্য, তিনি আদৌ এই চিঠি লিখেননি। কেউ তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার নাম ব্যবহার করে চিঠি লিখেছে। তার বক্তব্য, চিঠিতে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে সম্প্রতি একটি ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে এক মহিলার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় সেই মহিলা তাকে হুমকি দিয়েছিল। তার দাবি ওই মহিলাই সম্ভবত তার নামে প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের হুমকি চিঠি পাঠিয়েছে।
কিন্তু মোদীর নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। কোচিজুড়ে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্য। সাম্প্রতিককালে পিএফআইএর বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে অভিযানে নেমেছে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পিএফআইকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে এই ধরনের হুমকিকে কোনভাবে হালকা করে দেখছেন না গোয়েন্দারা।
অন্যদিকে কেরল পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য যে মহড়া দেওয়া হয়েছিল তার একাংশ ফাঁস হয়ে গিয়েছে। দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম মুরলিধরন এই ঘটনাকে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। ২৪ এপ্রিল বন্দে ভারতের এক্সপ্রেসের উদ্বোধন ছাড়াও একটি রোড শো করার কথা মোদীর। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর একটি জনসভা রয়েছে সেখানে।

