মোদীজী, কাশ্মীরে আমাদের সৈন্যদের মৃত্যু মিছিল আর কতদিন? প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বদল করুন

তপন কুমার ঘোষ
আমাদের ভারত, ৬ মে:
করোনা নিয়ে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী চিঠি চালাচালির রং তামাশার মধ্যে একটা বিরাট দুঃসংবাদ চাপা পড়ে গেল যা উচিত ছিল না। কাশ্মীরে কুপওয়ারা জেলায় হান্দওয়ারা নামক স্থানে পাকি জেহাদী জঙ্গি আক্রমণে আমাদের সেনাবাহিনীর কয়েকজন অফিসার সহ ৭ জন জওয়ান নিহত এবং ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মোদীজীর বহু সাফল্যের মধ্যে এটা একটা বিরাট ব্যর্থতা। কাশ্মীরের পাকিস্তান সীমান্তে আমাদের সৈন্যের মৃত্যুমিছিল রোধ করতে তিনি ব্যর্থ। তাঁর অন্য কোনও সাফল্য দিয়েই এই ব্যর্থতার ক্ষতিপূরণ হয় না।

মোদীজী-র কানে আমাদের আওয়াজ পৌঁছচ্ছে তো? মোদীজী, আপনি হিন্দুদেরকে জাগাননি। ইতিহাস, জেহাদী ও জেহাদীর এজেন্টরা হিন্দুকে জাগিয়েছে। আপনি শুধু হিন্দুদেরকে ভরসা দিয়েছেন। হিন্দুরা জেগেছে বলেই আপনি ওই ভরসা দেওয়ার জায়গাটাতে পৌঁছতে পেরেছেন। জাগ্রত হিন্দু আমাদের সেনাবাহিনীর এই লাগাতার মৃত্যুমিছিল মেনে নেবে না। এ বিষয়ে আপনার কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ দেখতে চাই। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বদল করুন।

কাশ্মীরের ঘটনার পরই একজন মোদী সমর্থক হিন্দুত্ববাদী বাঙালি অফিসার আমাকে লিখে পাঠিয়েছেন:

কাশ্মীরে কালকে কোনো এনকাউন্টার না, একটা নাটক দেখা গেল। কী হয়েছিল?
না, হান্দওয়ারাতে একটা মোল্লার বাড়িতে দুটো জেহাদি ঢুকেছিল, ঢুকে তাদের বন্দি করে রেখেছিল। এই কাশ্মীরের হান্দওয়ারা জায়গাটা একটা জেহাদি হটস্পট। প্রায় সবাই সেনাদের দিকে পাথর ছুঁড়ে তাদের জঙ্গি ভাইদের বাঁচায়। যে মোল্লাবাড়িতে জঙ্গিরা ঢুকেছিল, সেই বাড়ির লোকেরাও যে জঙ্গি সমর্থক আর ভারতবিরোধী, তা হলফ করে বলা যায়। তারা নিজেরাই জঙ্গি ঢুকিয়ে রাখে ঘরে। যেমন মেহবুবা মুফতিকে নিজেই অপহরণ করিয়ে তার বাপ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন জঙ্গিদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেছিল। যাইহোক, ওই জঙ্গি সমর্থকদের জন্য ইন্ডিয়ার ক্যালানি-মার্কা সিস্টেমের দ্রুত বীর্যঘটিত শীঘ্রপতন শুরু হল। আর ওই জঙ্গি সমর্থকদের ছাড়ানোর জন্য সেনা পাঠিয়ে ৪জন জওয়ানদের হারিয়ে আমরা ২ পিস পাতি লোকাল জঙ্গি মারলাম, আর ওই জঙ্গি সমর্থকদের ছাড়ালাম। কোল্যাটারেল ড্যামেজ আমাদেরই বেশি। ৪ জন হারিয়ে অন্ততঃ ২০০ মারলে তাও বোঝা যেত যে good ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে। এখানে কী achievement?
কি না…
মোদীজি tweet করলেন: “এই আত্মবলিদান মনে রাখব।” এত মনে রাখতে গিয়ে সেরিব্রাল অ্যাটাক না হয়ে যায়!

রাশিয়া এরকম ক্ষেত্রে চেচেন এর ইসলামী জঙ্গিদের মারতে গিয়ে সেনাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে না দিয়ে পুরো বাড়িটাকে উড়িয়ে দিত।

বরং জঙ্গিরা ওই কাশ্মীরিদের মারলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার করা যেত, দেখ, কাশ্মীরের সাধারণ মানুষকে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিরা মারছে। আমাদের কোনো ক্ষতি হত না। যা মরত, ওই জঙ্গি আর জেহাদি সাপোর্টারদের ওপর দিয়ে যেত। আর আমরা free publicity পেতাম।

অবশ্য, গান্ডুমি করাটা তো আমাদের মজ্জাগত।

আজ কাশ্মীরি মোল্লারা আর পাকিস্তানিরা ফেসবুকে আনন্দ করছে। আমার মতে ঠিকই আছে।
(লেখক কট্টরপন্থী হিন্দু নেতা, মতামত লেখকের নিজস্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *