আমাদের ভারত, ৮ নভেম্বর: বাংলাদেশ পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিমদের গুজরাটে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে সওয়াল করলেন মোদী। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অমুসলিমদের গুজরাতে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্জা ও চলছে। তার মধ্যেই সিএএ নিয়ে বার্তা দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশভাগের শিকার হিন্দু ও শিখরা। তাদের জন্যই সিএএ চালুর ভাবনা। সোমবার গুরু নানকের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এই নিয়ে বার্তা দেন মোদী। তাঁর কথায়, “বিভাজনের শিকার হিন্দু শিখদের জন্য আমরা সিএএ আইন তৈরি করে ওদের নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনারা দেখেছেন ওদেশ থেকে আসা অত্যাচারিত বঞ্চিত শিখ নাগরিকদের গুজরাতের নাগরিকত্ব দিয়ে ওদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি করতে চেয়েছি যে, বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা শিখরা জানবেন ভারত ওদের আপন দেশ।”
দেশ ভাগের ফলে নির্যাতনের শিকার হিন্দু ও শিখরা। তাই তাদের পাশে দাঁড়াতে তৈরি করা হয়েছে সিএএ। মোদী বলেন, দেশ বিভাজনের সময় যারা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করতে বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস চালু করেছে সরকার। বিভাজনের শিকার হিন্দু শিখদের জন্য আমাদের সিএএ তৈরি করেছি। যারা ভারতের বাইরে রয়ে গিয়েছেন তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার একটা চেষ্টা করেছি।
কিছুদিন আগেই গুজরাটের দুই জেলায় বসবাসকারী অমুসলিম বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তারপর আজ দিল্লিতে গুরু নানকের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সিএএ নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে মোদীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপির কাছ থেকে ইতিহাস শিখব না। আমরা জানি বাংলায় কত ক্ষতি হয়েছে। দেশের পশ্চিম প্রান্তে পাঞ্জাবের কি ক্ষতি হয়েছে জানি আমরা। স্বাধীনতা সংগ্রামে গোটা দেশ লড়াই করেছে। কাউকে ছোট না করেই বলা যায় সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে বাংলা ও পাঞ্জাব। অতীতের ক্ষতকে মুছে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ থেকে যারা এসেছেন ভোটার তালিকায় রয়েছেন তারা।তারা সকলে নাগরিক। তাদের ভোটে জিতেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদী। তারা সরকারি চাকরি করেন। ভোটে দাঁড়াতে পারেন। চলতি ব্যবস্থার মধ্যে নাগরিকত্বদানের অধিকার রয়েছে। নতুন করে ভেদাভেদ মূলক পদক্ষেপে আরো ক্ষতি হবে। আর যদি অনুপ্রবেশের কথা বলেন, তা দেখার কথা বিএসএফের। সেই দপ্তরের দায়িত্ব মোদী এবং অমিত শাহের। তাদের হাতেই সবটা রয়েছে। ঠেকান অনুপ্রবেশ। তা না করে নাগরিকত্ব নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভোটের রাজনীতি কাম্য নয়।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অসত্য বলেছেন। শুধু হিন্দু শিখদের কথা বলা নেই জৈন খ্রিস্টানদের কথাও আছে। আইন এক আর অন্য কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের পক্ষে তা দুর্ভাগ্যজনক। ৭৫ বছর আগে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এত বছর ধরে যারা আছেন তারা নাগরিক নন তারা তো ভোট দেন ভোটে দাঁড়ান মন্ত্রী হন। উদ্বাস্তুদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু কাগজের উপর নির্ভর করে না নাগরিকত্ব। দেশ কাল পরম্পরা জীবন জীবিকার সব কিছু জড়িয়ে। এতদিন ধরে যারা এদেশের নাগরিক তাদের বেনাগরিক করে আবার নতুন করে নাগরিকত্বের কথা বলে, মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন প্রধানমন্ত্রী।

