পিছিয়ে পড়া চন্দনাই বাংলার আকাঙ্খার প্রতীক,সেলেব গ্ল্যামারের বদলে শালতোড়ার গ্রাম্য প্রার্থীকেই মুখ করলেন মোদী

আমাদের ভারত, ২১ মার্চ: সেলিব্রিটিদের প্রার্থী করা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে তখন বাঁকুড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের জনসভা থেকে বিজেপির প্রচারের মুখ হিসেবে তুলে ধরলেন চন্দনা বাউরিকে। সেলেব গ্ল্যামারের বদলে স্থানীয় প্রার্থীকেই লড়াইয়ের সামনের সারিতে এনে সাধারণ মানুষের উদ্দ্যেশ্যে নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চাইল পদ্ম শিবির বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চন্দনা বাঁকুড়া শালতোড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। এছাড়াও তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক। তার চেহারায় আপাতমস্তক গ্রাম্যতার ছাপ স্পষ্ট। জনসভা থেকে তাকেই বাংলার আকাঙ্খার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন,” দিদির তো আমার চেহারাও পছন্দ নয়, আমার মাথাকে ফুটবল করে লাথি মারছেন তিনি। আমার চেহারা আপনি দেখুন বা না দেখুন, বাঁকুড়ার মেয়ে আমাদের প্রার্থী চন্দনার চেহারা আপনি কখনো ভুলবেন না। চন্দনা শুধু শালতোড়ার প্রার্থী নয়, বাংলার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিকাশের প্রতীক। ” মোদী বলেন,” এই সেই চেহারা যাকে আপনি বঞ্চিত করে রেখেছেন, যাকে তৃণমূলের তোলাবাজরা হেনস্তা করেছে, এই সেই গরিবের চেহারা যার চাল ঘর কেড়ে নিয়েছে তৃণমূল। এখন এই চেহারাই পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষের অধিকার পাইয়ে দেবে। এটাই আসল পরিবর্তনের চেহারা। এটাই সোনার বাংলা নির্মাণে শিল্পীর চেহারা।”

শালতোড়া আসন তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। চন্দনা বাউরিও তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলা। আর্থিকভাবেও অনগ্রসর। তবে তার এই আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। তাদের অভিযোগ চন্দনার পরিবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় আবেদন জানালেও বিজেপি কর্মী হওয়ায় তাকে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন প্রধান প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় গৃহনির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চন্দনার বাউরির মত প্রান্তিক মানুষকে প্রার্থী করে ও জনসভা থেকে তাকেই প্রচারের মুখ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি আসলে একটা ফারাককে নির্দিষ্টভাবে দেখাতে চাইলো। বাঁকুড়া জেলার বিধায়ক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত প্রধান বা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা বড় বড় গাড়ি হাঁকিয়ে ঘুরে বেড়ান। সেখানে একটি আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া, সরকারের প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত পরিবারের তরুণী গ্রাম্য গৃহবধূকে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। যাতে এই প্রার্থীর মধ্যে দিয়ে স্থানীয় সাধারণ গরিব মানুষ নিজেকে খুঁজে পায়। সেলেব গ্ল্যামারের বদলে অনগ্রসর এই তরুণীকে প্রার্থী করেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের বড় পদক্ষেপ ফেলেই ভোট বাক্সের দিকে এগোতে চাইছে পদ্ম শিবির। কারণ বাঁকুড়ার জনসভায় মোদী বারবার বলেছেন, এবার আসল পরিবর্তন হবে। ১০০% গরিবের সরকার হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে রাজ্যের মানুষ উন্নয়ন দেখবে। আর চান্দনা বাউরিকে সামনে রেখে মোদী শালতোড়ার মানুষের কাছে আহ্বান জানান, এবার তাদের সমর্থন করে বিধানসভায় পাইয়ে দিন যাতে, চন্দনা তাদের সেবা করার জন্য দিনরাত এক করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *