আমাদের ভারত, ২০ মার্চ:বৃহস্পতিবার তৃণমূল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। সেখানে দিদির ১০ অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়েছে। আজ খড়গপুরের জনসভায় সেই ১০ অঙ্গীকার নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলের ইশতেহারে প্রত্যেক পরিবারের ন্যূনতম রোজগারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ ও নলবাহিত জল পৌঁছানো, পড়ুয়াদের ৪ শতাংশ সুদে ১০ লক্ষ টাকা ঋণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। শনিবার খড়গপুর থেকে দিদির এই ১০ অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি নিয়েই আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলায় উন্নয়নের পথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দিদি। ১০ বছর লুঠ, দুর্নীতি, ধ্বংসের সরকার চালানোর পর দিদি এখন ১০ অঙ্গীকার করছেন।
মোদী বলেন, বাংলার মানুষ বিশ্বাস করেছিল দিদিকে। কিন্তু উনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানুষের স্বপ্নকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন। গত ১০ বছরে বাংলাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। অথচ এবার দিদি ১০ অঙ্গীকার নিয়েছেন। মোদী বলেন, “বাংলার মানুষ আপনাকে ১০ বছর সময় দিয়েছিল, কিন্তু আপনি লুঠের রাজত্ব চালিয়ে গেছেন। ১০ বছরে শুধু দুর্নীতি দিয়েছেন, কুশাসন দিয়েছেন।”
মোদী অভিযোগ করেন, বাংলার যুব সমাজের মূল্যবান দশটি বছর কেড়ে নিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মানুষের অস্থিরতা বুঝি। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূলকে বছরের পর বছর সহ্য করছে। দিদি বরাবর তোষণের রাজনীতি করে এসেছেন আর বাংলা যুবসমাজের কাছ থেকে বছর কেড়ে নিয়েছেন। দিদির দল এখানে নির্মমতার পাঠশালা চালাচ্ছে। এখানের সিলেবাস হচ্ছে তোলাবাজি, কাটমানি, সিন্ডিকেট। দিদির পাঠশালায় অত্যাচার ও অরাজকতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।”
মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,”আপনাদের স্বপ্নপূরণ করাই আমার লক্ষ্য। পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেভাবে আপনাদের ভোটাধিকারকে পিষে দেয়া হয়েছিল তা গোটা দুনিয়া দেখেছে। আমি কথা দিচ্ছি, দিদিকে গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে দেব না। পুলিশ প্রশাসনকে গণতন্ত্র বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা নিতে হবে। নির্ভয়ে ভোট দিন আপনারা। একসঙ্গে রুখে দাঁড়ান অরাজকতা বিরুদ্ধে।”
মোদী বলেন,”দিদির নতুন শিক্ষানীতি চালু করতে চাইছেন না। গরিবের ছেলে ডাক্তার হোক তাতেও আপত্তি দিদির।” মোদি আরও বলেন, “দিদি বলে বেড়াচ্ছেন খেলা হবে। কিন্তু গোটা বাংলা বলছে খেলা শেষ। এবার উন্নয়ন শুরু হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গতকাল রাতে ৫০-৫৫ মিনিট হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ডাউন হয়ে গিয়েছিল। মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। আর বাংলায় তো ৫০-৫৫ বছর ধরে উন্নতি আটকে রয়েছে।” বহিরাগত ইস্যুতে বিরোধীদের পাল্টা দিয়ে মোদী মনে করিয়ে দেন, বিজেপি জনসংঘের ছত্রছায়াতে তৈরি। যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাই সঠিক অর্থে বিজেপিই বাংলার দল। প্রধানমন্ত্রীর দাবি জনসভায় মানুষের ভিড় বুঝিয়ে দিচ্ছে বাংলায় এবার বিজেপি সরকার করবে।

