আমাদের ভারত, ১৫ মার্চ: বিজেপির দলীয় সভায় পরিবারতন্ত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার দলীয় কর্মীদের তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, পদ্ম শিবিরে কখনোই পরিবারতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বিজেপি নেতার সন্তান হোলেই টিকিট পাওয়া যাবে না।
মোদী বলেন, “পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এই দল থেকে আর করা যাবে না। অন্য দলের পরিবারতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করে চলেছি। যে মনোবৃত্তির সঙ্গে আমরা লড়াই করছি তা পূরণ করব।”
এক পরিবার এক টিকিট নীতি নিয়েছিল বিজেপি। দলের তরফে জানানো হয়েছিল মেধা ও পারফর্মেন্সের ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে এক পরিবারের একাধিক জনকে টিকিট দেওয়া হবে না। ভোটের ফলাফল বলেছে, এই বিষয়টি কাজেও দিয়েছে। ৫ রাজ্যের নির্বাচনে গেরুয়া শিবির ভালো ফল করেছে। নয়া ইতিহাস গড়ে উত্তরপ্রদেশের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। স্পষ্ট হয়েছে সিনিয়র নেতাদের টিকিট দেওয়া নিয়ে মোদী, শাহ, নাড্ডাদের নীতি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য হয়েছে কর্মী-সমর্থকদের কাছে।
কিন্তু ভোটে জেতার পরেও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মোদী। তিনি বলেছেন, “আমি কোনও পরিবারের বিরুদ্ধে নই। তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা নেই। আমার একটাই সমস্যা, আমি লোকতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তাই পরিবারবাদী রাজনীতি দূর করতে চাই।”
মোদী আরও বলেন, “রাজ্যগুলিকে পিছিয়ে দিচ্ছে এই পরিবারবাদী রাজনীতি। আমি নিশ্চিত, পরিবারবাদী রাজনীতির সূর্যাস্ত ঘটাবে সাধারণ মানুষ। দুর্নীতি যারা করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। জনতাকে চাই, আমি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে কিছুজন তার বিরোধিতা করে।”
ইউক্রেনে আটকে থাকা নাগরিকদের ফেরানো নিয়ে মোদী বলেন, যে রাজ্যে বিজেপি সরকার নেই সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীরা বিষয়টি নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করছেন। অন্যদিকে ১৯৯০ সালে হিন্দুদের কাশ্মীর উপত্যকা ছেড়ে আসা নিয়ে তৈরি ছবি কাশ্মীর ফাইলস নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজও ওই ঘটনার আসল সত্যতা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। অতীতেও একদল মানুষ এটাই চেষ্টা করেছেন। দেশের আসল ইতিহাস, আসল সত্যটা আমাদের সকলের জানার অধিকার রয়েছে।”

